প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সারাদেশে আমরা অন্তত ১০০টা বিশেষ অর্থনৈতিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলব। এরই মধ্যে ১০টা শিল্পাঞ্চলের কাজ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের বিনিয়োগকারীদের সেই শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
আজ রোববার বিকেল ৪টায় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পয়সা থাকলেই যত্রতত্র শিল্প গড়ে না তোলার জন্য দেশের বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা শিল্পাঞ্চলে শিল্প বিনিয়োগ করুন। এখানে আমরা গ্যাস-বিদ্যুতের সুবিধা দিতে পারব। কৃষিজমি নষ্ট করবেন না।
মনে রাখবেন, আমাদের এ দেশটা ছোট একটা ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত। ছোট্ট দেশে অনেক মানুষ, তাদের সবার মুখে আমাদের অন্ন তুলে দিতে হবে। আমরা অন্তত এ রকম ১০০টা শিল্পাঞ্চল হড়ে তুলব। এরই মধ্যে ১০টা কাজ শুরু হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তারা বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের দক্ষ করে তুলছি।’
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর আমরা গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করি। তখন আমরা ৮০০ টাকা থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা করেছিলাম।
পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে এসে আমরা তিন হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ করে দেই। ২০১৩ সালে সেটা বাড়িয়ে করি পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা। আমি নিজে মালিকপক্ষের সঙ্গে দরকষাকষি করে এটা করেছি। আমি ছিলাম বারগেইনিং এজেন্ট।
মালিকপক্ষকে আমরা এই মজুরিতে রাজি করিয়েছিলাম। অবশ্য এ জন্য মালিকপক্ষকে আমাদের বিশেষ কিছু সুবিধা দিতে হয়েছিল। কিন্তু সেদিন মালিকপক্ষ আমার কথা রেখেছিলেন।’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই দেশ-বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের আমলে বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
আলোচনা অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী, সাংসদ, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও অংশ নেন শ্রমিক লীগ ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মুজিবুল হক চুন্নু।
আলোচনা সভা শেষে শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও থাকবেন।
ওএফ/এসএম





