গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের কেন্দ্রে ধানের শীষের কোনো এজেন্টকে পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সকাল নয়টা ১০ মিনিটের দিকে নগরীর ৩০ নং ওয়ার্ডের কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মেয়ে জারাকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দেন জাহাঙ্গীর আলম।

পরে সেখানে গিয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের কোনো এজেন্টকে পাওয়া যায়নি।

বিএনপি নেতারা বলছেন, তাদের এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, ধানের শীষের এজেন্টরা ভয়েই এখানে আসেননি।

এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার কানজুরুল ইসলাম জানান, এই কেন্দ্রে বিএনপির কোনো এজেন্ট আবেদনই করেননি।

তিনি জানান, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হচ্ছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়নি।

তবে এই কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি খুবই কম দেখা গেছে। বেলা সাড়ে ১০টা পর্যন্ত নারী ভোটার কয়েকজনকে দেখা গেলেও পুরুষ ভোটার নেই বললেই চলে। কেন্দ্রের ৫টি বুথের মধ্যে ৩টি একেবারেই ফাঁকা। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ১১৮ জন। এদের মধ্যে নারী ১ হাজার ৩৪ ও পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৮৪ জন।

এই কেন্দ্রে ভোট দিয়ে নাসির উদ্দিন (৮০) ও আসাব উদ্দিন (৫৫) জানান, শান্তিপূর্ণভাবে তারা ভোট দিতে পেরেছেন। কোনো ঝামেলা কেউ করেনি।

ভোটার উপস্থিতির বিষয়টি প্রিজাইডিং অফিসারও স্বীকার করলেন, ‘কেন্দ্রে প্রথম ঘণ্টায় পড়ে ৮২ ভোট। পরের আধা ঘণ্টায় ১০০।’

একই অবস্থা পার্শ্ববর্তী ভালুচাকলী ফাইজ উদ্দিন কসিম উদ্দিন জামিয়া কাসেমিয়া মাদ্রায় কেন্দ্রে। সেখানেও বিএনপির কোনো পোলিং এজেন্টকে পাওয়া যায়নি।

এই কেন্দ্রে নৌকার পোলিং এজেন্ট শামীম আহসান বলেন, ‘তারা ভয়ে চলে গেছে। কেউ বের করে দেইনি।’

নৌকার সমর্থক অ্যাডভোকেট বেলায়েত হোসেন ও মেসবাহার বেগম জানান, এখানে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হচ্ছে। কাউকে ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে না।

কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রে নারী-পুরুষ মিলে মোট ভোটার ১ হাজার ৯৯৫ জন। সকাল থেকে ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, সকাল থেকে এই কেন্দ্রে ধানের শীষের কোনো এজেন্টকে পাওয়া যায়নি। কেন আসেননি, তারাই ভালো বলতে পারবেন।

এর আগে সকালে ভোট প্রদান শেষে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার অভিযোগ করেন, সাতসকালেই অন্তত ১০টি কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের মারধর করে বের করে দিয়েছে সরকারি দলের লোকেরা।