টঙ্গীর তুরাগতীরে শুরু হয়েছে তাবলিগ জামাতের ৫০তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। চার দিন বিরতি দিয়ে আজ শুক্রবার ফজর নামাজের পর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় এই পর্বটি শুরু হয়।
আগামী রোববার জোহরের নামাজের আগে (পূর্বাহ্নে) আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমা শেষ হবে। দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা সফল করতে পুরো টঙ্গীতে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
শনিবার বাদ মাগরিব তাবলিগের মুরুব্বিরা আমবয়ানে নবীর সুন্নত, আকিদা ও দাওয়াতি কাজের ওপর গুরুত্বারোপ করবেন এবং যৌতুকবিহীন বিয়ে পড়ানো হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দলে দলে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমাস্থলে এসে মাঠের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নিচ্ছেন। হাজার হাজার মুসল্লি আল্লাহর অশেষ রহমত প্রার্থনায় ইজতেমা ময়দানে ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন।
আজ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে জুমার নামাজ। আশপাশ থেকেও হাজার হাজার মুসল্লি এসে বিশাল জামাতে জুমার নামাজ আদায় করবেন। আখেরি মুনাজাত পর্যন্ত মুসল্লিদের এ আগমন অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও বেসরকারি অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়াসহ সেবার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো ইজতেমা ময়দানকে।
এদিকে অবরোধ ও হরতালের মধ্যেও দূরদুরান্তের মুসল্লিরা যানবাহন ভাড়া করে ইজতেমা মাঠে আসছেন।
৫০তম বিশ্ব ইজতেমাকে সফল করতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ইজতেমায় আগত দেশ-বিদেশের মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বের ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ, টঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইসমাইল হোসেন ও অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম সব কাজের অগ্রগতির সার্বিক বিষয় তদারকি করছেন।
এ পর্বের বিদেশি মেহমানদের জন্য নির্মিত তাশকিল কামরার টিনের শামিয়ানার পূর্বপাশে স্থাপিত মূল মঞ্চ থেকে তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বিরা আরবি ও উর্দুতে বয়ান করবেন এবং মুসল্লিদের সুবিধার্থে তা বাংলা তরজমা করা হবে। এছাড়াও এসব বয়ান ইংরেজি, ফার্সি, উর্দু, মালয় ভাষায় তরজমা করে মুসল্লিদের শোনানো হবে বলে ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বিরা জানান।
মুসল্লিদের সুশৃঙ্খল অবস্থানের জন্য ইজতেমা ময়দানে চটের তৈরি পুরো প্যান্ডেলকে দ্বিতীয় পর্বে ৩৪টি জেলার মুসল্লিদের ৩৯টি খিত্তায় ভাগ করে বিভিন্ন জেলাওয়ারী মুসল্লিদের অবস্থানের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম পর্বে অংশগ্রহণকারী জেলাগুলোর মুসল্লিরা দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন না।
ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে খিত্তাওয়ারি মুসলিমদের অবস্থান
খিত্তা নং-১ (নারায়ণগঞ্জ-১), খিত্তা নং-২ (নারায়ণগঞ্জ-২), খিত্তা নং-৩ (ঢাকা-১, হালকা-৩০১-৩২৫), খিত্তা নং-৪ (ঢাকা-২, হালকা-৬০১-৬৩৯), খিত্তা নং-৫ (কক্সবাজার), খিত্তা নং-৬ (মানিকগঞ্জ), খিত্তা নং-৭ (পিরোজপুর), খিত্তা নং-৮ (পটুয়াখালী), খিত্তা নং ৯ (১) (টাঙ্গাইল-ক), খিত্তা নং ৯ (২) (টাঙ্গাইল-খ), খিত্তা নং-১০ (১) (জামালপুর-ক), খিত্তা নং-১০(২) (জামালপুর-খ), খিত্তা নং-১১ (বরিশাল), খিত্তা নং ১২ (নেত্রকোনা), খিত্তা নং-১৩ (কুমিল্লা), খিত্তা নং-১৪ (মেহেরপুর), খিত্তা নং-১৫ (ঝিনাইদহ), খিত্তা নং-১৬ (ময়মনসিংহ-১), খিত্তা নং-১৭ (ময়মনসিংহ-২), খিত্তা নং-১৮ (ময়মনসিংহ-৩), খিত্তা নং-১৯ (লক্ষ্মীপুর), খিত্তা নং-২০ (বি.বাড়ীয়া), খিত্তা নং-২১(কুড়িগ্রাম), খিত্তা নং-২২ ( নোয়াখালী), খিত্তা নং-২৩ (নীলফামারি), খিত্তা নং-২৪ (ঠাকুরগাঁও), খিত্তা নং-২৫ (পঞ্চগড়), খিত্তা নং-২৬ (চাপাইনবাবগঞ্জ), খিত্তা নং-২৭ (বগুড়া), খিত্তা নং-২৮ (পাবনা), খিত্তা নং-২৯ (নওগাঁ), খিত্তা নং-৩০ (মুন্সিগঞ্জ-১), খিত্তা নং-৩১ (মুন্সিগঞ্জ-২), খিত্তা নং-৩২ (মাদারীপুর), খিত্তা নং-৩৩ (গোপালগঞ্জ), খিত্তা নং-৩৪ (সাতীরা), খিত্তা নং-৩৫ (মাগুরা), খিত্তা নং-৩৬ (খুলনা), খিত্তা নং-৩৭ (সুনামগঞ্জ), খিত্তা নং-৩৮ (মৌলভীবাজার), ৩৯ (কুষ্টিয়া)।
চিকিৎসাসেবা : চিকিৎসাসেবায় সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র ছাড়াও বেসরকারিভাবে এবারো প্রথম পর্বের মতো হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস, জনকল্যাণ ফার্মাসিউটিক্যালস, টঙ্গী ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ আয়ুর্বেদী হারবাল এসোসিয়েশন, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশন ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, র্যা ব ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এ পর্বেও চালু থাকবে। এ সব মেডিক্যাল ক্যাম্প থেকে মুসল্লিরা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
নিরাপত্তাব্যবস্থা : প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বের মুসল্লিদের নিরাপত্তা কার্যে র্যা ব, পুলিশের ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে ইজতেমা মাঠ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এবারও সিসি টিভি ক্যামেরার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ জানান, বিশ্ব ইজতেমার মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা দানে এবারো ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গাজীপুর জেলা পুলিশসহ র্যা ব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১২ হাজারের বেশি সদস্য নিরাপত্তাকাজে নিয়োজিত থাকবে।
জেএ





