রাস্তায় অবৈধ্য যান চলাচল বন্ধ এবং অপসারণের দাবিতে আবারও মাঠে নামছেন রাজশাহীর বাস-ট্রাক মালিক শ্রমিকরা। অবিলম্বে ওইসব যান চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাজশাহীর বাস-ট্রাক মালিক শ্রমিকরা।

সোমবার দুপুরে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপ কার্যালয়ের বাস-ট্রাক মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ওই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যরা রাজশাহীর দুটি রুটে অবৈধ্য এসব যান চলাচলের সুপারিশ করায় আবারও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব চৌধুরী বলেন, দফায় দফায় আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রশাসন রাস্তায় ভটভটিসহ অবৈধ্য যান চলাচল বন্ধ করে দেয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব যানবাহন তৈরীর কারখানাতেও অভিযান চালানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং স্থানীয় প্রশানের কঠোর অবস্থানের কারণে সম্প্রতি মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ্য এসব যান চালাচল বন্ধ হয়ে ছিল।

কিন্তু পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি তার নির্বাচনী এলাকা বাঘা-চারঘাটের সকল রুটে নসিমন, করিমন, ভটভটি, পাওয়ারটিলার, ট্রাক্টরসহ অবৈধ্য যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে রাজশাহীর পবা-মোহনপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন তার নির্বাচনী এলাকায় একই ভাবে ভটভটি চলাচল স্বভাবিক করেন।সর্ম্পূন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ওই পরিবহণ শ্রমিক নেতা।

একই সঙ্গে শিগগিরই এসব যান চলাচল বন্ধ না হলে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান। অন্যথায় রাস্তায় এসব অবৈধ্য যানবাহন প্রতিবোধসহ কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন তিনি।

এসময় রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মনজুর রহমান পিটার বলেন, বরাবরই দাবি আদায়ে সোচ্চার ছিলো রাজশাহীর বাস-ট্রাক মালিক শ্রমিকরা।এ নিয়ে প্রশাসনের সাথে দীর্ঘ দেন দরবারও চলেছে। প্রশাসনের আশ্বাসে ধর্মঘটসহ চলমান আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে।

কিন্তু বরাবরই রাজশাহীর বাস ট্রাক মালিক শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নে উদাসিন প্রশাসন।তবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আন্দোলন নয়, নিরাপদ ভ্রমন নিশ্চিত ও বাস-ট্রাক মালিক শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় তারা আন্দোলন করছেন।

আসন্ন ঈদের আগে কোন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হবেনা বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। তবে পরিস্থিতি বুঝে পরে ব্যব্স্থা নেয়া হবে বলেও জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্র“পের সহসভাপি সৈয়দ রেজাউল মোস্তফা কামিলি, রাজশাহী জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি রবিউল ইসলাম, জেলা ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম প্রমুখ।

এর আগে ছয় দফা দাবিতে দফায় দফায় ধর্মঘটসহ আন্দোলন করে রাজশাহীর ট্রাক-বাস মালিক শ্রমিকরা। তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, নসিমন, করিমন, ভটভটি, পাওয়ারটিলার, ট্রাক্টরসহ অবৈধ যান চলাচল বন্ধ, সিএনজি, মাহেন্দ্র, থ্রিহুইলার, ইমা রুট পারমিট বহির্ভূত এলাকায় চলাচল বন্ধ ও রুট পারমিট প্রদান বন্ধ,

লিজকৃত বিআরটিসি ও দ্বিতল বাস উপজেলা ভিত্তিক চলাচল বন্ধ, স্কেলের নামে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ, বিআরটিএর ট্যাক্স টোকেন ও ফিটনেস এর বর্ধিত ফি প্রত্যাহার এবং সকল প্রকার পুলিশী হয়রানি বন্ধ। এরই মধ্যে পুলিশী হয়রানি বন্ধসহ বেশ কয়েকটি দাবি বাস্তবায়নের পথে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা, ৭ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর