দু’দিন ধরে কোনো কারণ ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে এমন অভিযোগে গ্রাহক ও উত্তেজিত জনতা চরফ্যাশন উপজেলার তিনটি বিদ্যুৎ অফিসে হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় তারা আসবাবপত্র ভাঙচুর ও স্টাফদের ধাওয়া করে। পরে সদর রোডে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। তবে বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা বলছেন, লাইন বিপর্যস্ত হওয়ার কারণেই দু’দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সহস্রাধিক উত্তেজিত জনতা পৃথকভাবে এ হামলা চালায়। পরে জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বিদ্যুৎ অফিসগুলোর নিরাপত্তা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ ও ওজোপাডিকো দপ্তরের গাফলতিতে কোনো কারণ ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে তারা প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারছে না।
এদিকে উত্তেজিত জনতা প্রথমে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মহিলা কলেজের পেছনে অবস্থিত বিদ্যুৎ অফিসে হামলা করে। পরে শরীফ পাড়ার দু’টি অফিসেও হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা।
ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী জানান, লালমোহন সীমানায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লাইন বিপর্যস্ত হওয়ায় চরফ্যাশনে দু’দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায় নি। ওই উপজেলায় ওজোপাডিকোর গ্রাহক রয়েছে সাড়ে ৫ হাজার। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৩০ হাজার।
বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি, আওয়ামী লীগ নেতা মনির উদ্দিন চাষী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাদল কৃষ্ণ দেবনাথ এভাবে চলতে দেয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন।
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আন্দোলন সংগ্রাম কমিটি গঠন করেছে স্থানীয়রা।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় যে কোনো সময় আবারও হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় বিদ্যুৎ অফিসগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাহারা দিচ্ছে পুলিশ।
জেআই





