নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাবেদ আলী বলেছেন, অতীতে কিছুটা ত্রুটি-বিচ্যুতি হলেও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন ইসির নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নিজ কক্ষে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছন।
নির্বাচন কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে— এমন প্রশ্নের জবাবে জাবেদ আলী বলেন, ‘আশা করি, নির্বাচন পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কিছুটা ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েও থাকে সে সব যেন এবার না ঘটে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের যে সংখ্যক পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক নির্বাচন কাভার করে, তারা কিন্তু দু-চারটি কেন্দ্রে যায় তা কিন্তু নয়।
তারা প্রায় অর্ধেক নির্বাচনী এলাকা কাভার করে ফেলে। মনে করি, নজরদারি ও সবার সহযোগিতায় নির্বাচন সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে। আমরা সবার সহযোগিতায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই।’
সরকারের সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচন ঠিকভাবে করা যায় না, এবার সরকারের সহযোগিতার ব্যাপারে ইসি কতটুকু আশাবাদী— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সবার সহযোগিতা চাই। সংবিধানে বলা আছে, নির্বাচনকালীন নির্বাচন কমিশনকে সবাই সহযোগিতা করবে। সরকার বা দলীয়ভাবে নির্দিষ্ট করে বলা নেই। আশা করছি, সবার সহযোগিতা পাব।’
অতীতের নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের দাপট ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, এতে নির্বাচন প্রভাবিত হয়। এ নির্বাচন প্রভাবমুক্ত রাখতে কমিশন কোনো ভূমিকা রাখবে কিনা– জানতে চাইলে জাবেদ আলী বলেন, ‘আমাদের প্রতিটা নির্বাচনে নির্বাহী এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন। তাদের তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু দলীয় প্রতীকে এটায় প্রথম স্থানীয় সরকার নির্বাচন। অতএব নির্বাচন কমিশনের নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন ত্রুটি না করেন বা ঘটায় তার জন্য যথেষ্ট প্রশিক্ষণ বা মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঘরোয়া ও পথসভায় পূর্ব অনুমতির নামে পুলিশি হয়রানি হবে বলে বিএনপি আশঙ্কা করছে— আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। নির্বাচন কমিশন প্রতিটি প্রার্থীকে সমানভাবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।
প্রার্থী কোন দলের সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়। যেকোনো প্রার্থী সমস্যা নিয়ে আবেদন জানালে ইসি প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে ব্যবস্থা নেবে।’
আচরণবিধিতে দলীয় প্রধান হিসেবে প্রচারণায় সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে শেখ হাসিনা প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন কিনা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আচরণবিধিতে অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিষয়ে বলা রয়েছে, তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শামিল আছেন বলেও আমি জানি।’
জামায়াত ইসলামীর নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবেন কিনা— জানতে চাইলে সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘ইসিতে ৪০টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত রয়েছে। কিন্তু দেশে তো আরও দল আছে। সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে দল বা সংগঠন করার বিষয়ে বলা আছে।
সবাইকে যে নিবন্ধিত হতে হবে, তার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তারা যদি নিবন্ধিত নাও হয় তারপরও নির্বাচন করতে পারবে। তবে তারা দলীয় প্রতীক পাবে না।’
তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনে কারা যোগ্য বা অযোগ্য। ব্যক্তি বিশেষ নয়, প্রতিটি ব্যক্তির নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন তবে কোনো ধরনের অযোগ্যতা থাকলে তারা অংশ নিতে পারবে না।
নির্বাচনী ব্যয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি প্রার্থীর আলাদা এ্যাকাউন্ট থাকবে। সেখান থেকে তারা খরচ করবে। তাদের প্রতিটি খরচ তাদেরে ইসিতে জমা দিতে হবে।’
নির্বাচন শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে হিসাব ইসিতে জানাতে হবে বলেও জানান জাবেদ আলী।
এসএইচ





