শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু চার দিনের মধ্যে তোবার শ্রমিকদের পাওনা টাকার পরিমাণ জানাতে বললেও পাঁচ দিন পরও হিসাব দেননি গার্মেন্টসের মালিক দেলোয়ার হোসেন।
এ ব্যাপারে তোবা গার্মেন্টসের মালিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘একজন শ্রমিক নেতা বিদেশে থাকায় হিসাব করা হয়নি। আজ-কালের মধ্যে দিতে পারব আশা করি।’
গত ২৬ আগস্ট নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, এফবিসিসিআইয়ের দুজন সহ-সভাপতি এবং বেশ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধির সঙ্গে তিন ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ওই তথ্য জানিয়েছিলেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী।
তোবার শ্রমিকদের স্বার্থ নিয়ে আন্দোলনকারী ও সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, ‘হিসাবটা এখনও হয়নি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই হিসাব দেওয়ার বিষয়টাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’
ওই দিনের বৈঠকে টাকার হিসাব দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে বিপরীত মত দেন গার্মেন্টসের মালিক দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের পাওনার হিসাব আমি দিতে পারব। কিন্তু টাকা দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই।’
এতে তোবা গ্রুপের প্রায় ১৬শ শ্রমিকের পাওনার বিষয়টি কার্যত অমীমাংশিতই রয়ে গেল। একদিকে দেলোয়ার হোসেন যেমন টাকা দিতে অপারগতা জানিয়েছেন অন্যদিকে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘মালিক-শ্রমিকের সমঝোতা না হলে পাওনা আদায়ের রাস্তা আদালত। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সেই পথে (আদালত) যাতে না যেতে হয় ওই চেষ্টা করছি।’
গত ১৮ আগস্ট শ্রমিকদের পুরো পাওনা না দিয়ে শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী তোবা গ্রুপের ৫ কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেন তোবার মালিক। ১১ জুন থেকে কারখানা বন্ধ কার্যকর হবে উল্লেখ করে উল্লিখিত পাচঁটি কারখানার গেটে নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, তিন মাসের (মে-জুলাই) মজুরি, ওভারটাইম ও ঈদ বোনাসের দাবিতে তোবার পাঁচ কারখানার শ্রমিকরা ২৯ জুলাই থেকে শুরু করে টানা ১১ দিন উত্তর বাড্ডার হোসেন মার্কেটের সপ্তম তলায় কারখানায় অনশন করেন।
পরবর্তী সময়ে বিজিএমইএর মধ্যস্থতায় ৬ ও ৭ আগস্ট দু’মাস এবং ১০ আগস্ট এক মাসের বকেয়া মজুরি ও ওভারটাইমের টাকা পান শ্রমিকরা।
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





