সিরাজগঞ্জ বাস মালিক সমিতি ও মহাখালী বাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্বের জের ধরে সিরাজগঞ্জ জেলায় সকল প্রকার পরিবহন বন্ধ রেখে চতুর্থ দিনের মতো অর্নিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছে জেলা পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। ৪ দিন ধরে সিরাজগঞ্জে থেকে সকল রুটে বাস, ট্রাকসহ সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর ৫ দিন আগে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করে ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানানো হয়।
জেলা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা বলছে, কয়েকদিন ধরে দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য আন্দোলন চললেও তা নিরসন না করায় জেলার সকল পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন মিলে এই কর্মসূচী দেয়া হয়েছে। তারপরেও যদি দ্বন্দ্ব নিরসন না হয় তাহলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচী দেয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ বাস মালিক জিন্নাহ আলমাজি জানান, সিরাজগঞ্জ-ঢাকা রুটে সিরাজগঞ্জ জেলা বাস-মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই ঢাকার “সেবা লাইন” ব্যানারের বেশ কয়েকটি বাস এই রুটে চলাচলের জন্য পাঠিয়ে দেয় মহাখালী বাস টার্মিনাল মালিক সমিতি। এনিয়ে দুই সমিতির মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ১৩ জুলাই থেকে সিরাজগঞ্জ-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিরসনের দাবি জানিয়ে সিরাজগঞ্জ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনদিনের আল্টিমেটাম দেয়। বুধবার আল্টিমেটামের দিন শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে জেলার সব রুটে পরিবহন ধর্মঘট পালন করে তারা।
উল্লেখ্য, মহাখালী বাস মালিক সমিতি সিরাজগঞ্জ থেকে “সেবা লাইন” নামে ঢাকা-সিরাজগঞ্জ রুটে একটি বাস সার্ভিস চালু করার উদ্যোগ নেয়। এই বিষয় নিয়ে দুই বাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর জের ধরেই মহাখালী বাস টার্মিনালে সিরাজগঞ্জের সকল পরিবহনের কাউন্টার বন্ধ করে দেয় মহাখালী বাস মালিক সমিতি। এর প্রতিবাদে ১৩ জুলাই শনিবার সকাল থেকে সিরাজগঞ্জ ঢাকা রুটে সকল বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় সিরাজগঞ্জ বাস মালিক সমিতি। ৭ দিন ধর্মঘট পালন করে কোনও সুরাহা না হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে এই ধর্মঘট পালিত হচ্ছে।
এসএম





