বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্দরবন এলাকায় ৩৪ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন, নীলডুমুর এর আত্ততাধীন কৈখালী বিওপি এবং ভারতের ৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন, সমশেরনগর এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবি-বিএসএফ এর মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ৩ দিন ব্যাপী (১২ হতে ১৪ মার্চ ২০১৬) "সুন্দরবন মৈত্রী" নামে এক যৌথ অনুশীলন (Joint Exercise) অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই যৌথ অনুশীলনের দ্বিতীয় দিন আজ (১৩ মার্চ) দুপুরে সুন্দরবনের টি-জংশন (T-Junction) এলাকায় (হাড়িয়াভাঙা ও রায়মঙ্গল নদীর সংযোগস্থল) পণ্যবাহী ভারতীয় কার্গো জাহাজ তল্লাশির যৌথ অনুশীলন করা হয়।

বিএসএফ এর আমন্ত্রণে আজ ভারতীয় অংশে বিএসএফ এর ভাসমান বিওপিতে বিজিবি ও বিএসএফ এর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ এই যৌথ অনুশীলন পরিদর্শন করেন এবং উভয় পক্ষ সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন।

বৈঠকে উভয় পক্ষই যৌথ অনুশীলন সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেন এই যৌথ অনুশীলন কার্যক্রম সুন্দরবন এলাকায় সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমাদের কর্মতৎপরতা আরও কার্যকরভাবে প্রসারিত হবে।

আজকের অনুষ্ঠানে বিজিবি'র দক্ষিণ পশ্চিম রিজিয়ন, যশোর এর রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল খোন্দকার ফরিদ হাসান (Khondokar Farid Hasan), খুলনা সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ছাড়াও দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোর এর পরিচালক (অপারেশন), ৩৪ ও ৩৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়কদ্বয়, দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোরের ফিল্ড ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ কমান্ডার, রিভারাইন বর্ডার গার্ড কোম্পানী, নীলডুমুর, এর অধিনায়কসহ বিজিবি’র বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং অন্যান্য পদবীর বিজিবি সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

অপরদিকে ভারতীয় পার্শ্বে বিএসএফ সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার এর আইজি শ্রী সন্দীপ সালুনকি (Sandeep Salunki), ডিআইজি শ্রী কে এল শাহ, কলকাতা সেক্টর কমান্ডার, সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের নোডাল অফিসার, ৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট , বিএসএফ এর বিভিন্ন পর্যায়ের অফিসার এবং  অন্যান্য পদবীর বিএসএফ সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

অনুশীলনের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ এবং ভারতের ১০ জন করে সাংবাদিক এই অনুশীলন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

এই যৌথ অনুশীলনের লক্ষ্যসমূহ নিম্নরূপ: (১) সুন্দরবন এলাকার জল সীমানায় সাধারণ সমস্যা এবং ঝুকিসমূহ পর্যবেক্ষণ করা, (২) বিজিবি-বিএসএফ কর্তৃক সুন্দরবন এলাকায় নিজ নিজ সীমানার মধ্যে থেকে যৌথ টহল পরিচালনা করা, (৩) যৌথ টহল পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রটোকল রুটে চলাচলকারী কার্গো এবং মাছ ধরার ট্রলারে তল্লাশী কার্যক্রম অনুশীলন করা এবং (৪) উভয় দেশের ফরেষ্ট ক্যাম্প ও কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হওয়া।

আগামীকাল (১৪ মার্চ) এই "সুন্দরবন মৈত্রী" যৌথ অনুশীলনের সমাপ্তি হবে।

এই যৌথ অনুশীলন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা প্রসংগে ২০১৪ সালের ২৫-৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছিল। এ ধরণের অনুশীলন দু’বাহিনীর বিরাজমান সুসম্পর্ক ও আস্থা আরো সুদৃঢ় করবে। উল্লেখ, বর্তমানেও আমরা সুন্দরবন এলাকায় উভয় বাহিনী নিজ নিজ সীমানার মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আস্থার মাধ্যমে নদীপথে যৌথ টহল পরিচালনা করে আসছে।

এসটি