বগুড়ার শিবগঞ্জে শিয়া মসজিদে হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার এক ছাত্রসহ সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মসজিদের কোষাধ্যক্ষ সোনা মিয়া বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের এ হামলার দায় স্বীকার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। সে রকম কোনো তথ্য পেলে পুলিশ গণমাধ্যমকে জানাবে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল বলেন, এ ঘটনায় আটক দুজন হলেন, জুয়েল (২০) ও আনোয়ারুল ইসলাম (৫৫)। তাঁদের মধ্যে জুয়েলের বাড়ি হরিপুরে। তিনি ঘটনাস্থলের কাছে অবস্থিত আলাদিপুর মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। আর আনোয়ারুলের বাড়ি সৈয়দ দামগাড়া গ্রামে। ঘটনাস্থলের আশপাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আরিফুর আরও বলেন, গতকালের ওই হামলায় গুলিতে জখম তিনজনের মধ্যে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুজনের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ব্যক্তির অবস্থা উন্নতির দিকে। মসজিদের চত্বরেই চলছে গুলিতে নিহত মসজিদের মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেনের দাফনের প্রস্তুতি।
শিয়া সম্প্রদায়ের ওই মসজিদটি বাংলাদেশ ইমামিয়া জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন পরিচালনা করে। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ আবু জাফর মণ্ডল বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে এই ফাউন্ডেশনের কাজ শুরু হয়। ইরানি দূতাবাসের সহায়তায় তাঁদের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। মসজিদের আশপাশে প্রায় ১২০টি পরিবার বসবাস করেন বলে স্থানীয় ও মসজিদ সূত্রে জানা গেছে।
মসজিদের মুসল্লি আব্দুর রশিদ বলেন, হামলাকারীরা তিন থেকে চারজন ছিলেন। তাঁরা আগেও বেশ কয়েকবার এসে মসজিদ সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে গেছেন। হামলার দিন তাঁরা তাঁদের সঙ্গে নামাজ পড়েননি।
এমআর





