কুমিল্লা নাঙ্গলকোট উপজেলার ২নং পেড়িয়া ইউনিয়নের খোশার পাড়া ভূইয়া ডোবা থেকে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ একটি কঙ্কাল উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খোশার পাড়া গ্রামের এয়াছিন সকালে ইরি ধানের খেতে পানির সেচ দিতে গিয়ে পুকুরের কছরি পানার উপর একটি মানুষের কঙ্কাল দেখে তার চিৎকারে গ্রামের লোকজন এসে লাশের কঙ্কালটি দেখতে পায়। পরে নাঙ্গলকোট থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশের কঙ্কালটি নিয়ে যায়।

এ বিষয় তাৎক্ষণিক কেউ তার পরিচয় সনাক্ত করতে পারেনি। এদিকে গত ৩ মাস আগে পার্শ্ববর্তি ছুপুয়া গ্রামের আম্বর আলী (৬০) অসুস্থ অবস্থায় বাড়ী থেকে বের হয়ে যায়।

এলাকায় মাইকিং, পত্রিকায় নিখোঁজ সংবাদ ও বিভিন্ন স্থানে খোঁজা খুজি করেও কোন হদিস পাওয়া যায়নি। আম্বর আলীকে নিখোঁজ হওয়ার পর আশে-পাশে দেখেছে বলে অনেকে জানান। কিন্তু কোথায় রয়েছে তার কেউ সন্ধান দিতে পারেনি।

অবশেষ এলাকায় কঙ্কালের খবরটি পেয়ে তার পরিবারের লোকজন এসে তার আগের তোলা ছবি ও পত্রিকায় নিখোঁজের সংবাদটির সাথে মিলিয়ে লাশের সনাক্ত করেছে তার পরিবার।

তার পরিবার জানান, নিখোঁজ আম্বর আলী মানসিক ভাবে অসুস্থ ছিলেন। এর আগেও তিনি এরকম একবার নিখোঁজ হয়েছেন। তার পরিবারে ১ ছেলে ও মেয়ে রয়েছে।

তার স্ত্রী সামছুন নাহার স্বামীকে হারিয়ে প্রায় পাগল অবস্থায় দিন কাটছে। ছেলে বেলাল হোসেন বাড়ীতে থাকা অবস্থায় বাবা নিখোঁজ হন। বাবাকে হারিয়ে বুক ভরা কান্না নিয়ে চলে যান বিদেশের কর্মস্থলে।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া লাশটি অজ্ঞাত থাকায় আমরা ময়নাতদন্তর জন্য মেডিকেলে পাঠিয়েছি। তবে ছুপুয়া গ্রামের নিখোঁজ আম্বর আলী নামে একজন অনেক দিন থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। সে মানুষিক ও প্রতিবন্ধি ছিল। এর আগেও একবার ওই ব্যক্তিটি নিখোঁজ ছিল। তবে তার পরিবার হাতের আঙ্গুল দেখে সনাক্ত করছে বলে দাবি করেন।

আমরা যেহেতু লাশের প্রাথমিক অবস্থায় কোন পরিচয় পাইনি, তাই লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিবারকে আমি খবর দিয়েছি তারা লাশের প্রমাণ ও থানায় একটি ডায়েরী করলে আমরা লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করবো।

এআর