কুয়াকাটার খাজুরা লেম্বুচরের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সৈকতে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের কর্মীরা মদ্যপ অবস্থায় রাতের আঁধারে অস্ত্রের মহড়া ও বিরামহীন গুলি বর্ষণ করেছেন। শনিবার রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী চারটি পিস্তল ও তিনটি শর্টগানের অর্ধশতাধিক ফাঁকা গুলি বর্ষণে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

ঘটনাস্থল থেকে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত পর্যটকরা এ সময় দিকবিদিক ছুটতে থাকেন। ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত লোকজন পুলিশকে খবর দিলে কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয়ের নেতৃত্বে একদল পুলিশ খোঁজখবর নিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রাত ১২টার দিকে আবাসিক হোটেল পর্যটন হলিডে হোমস’র যুবপান্থ নিবাসের ২০১ নম্বর কক্ষে তল্লাশি চালায়। এ সময় ওই কক্ষ থেকে দুটি পিস্তল ও একটি শর্টগান জব্দ করা হয়। তবে কাউকে আটক করা হয়নি। এ সময় বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার উপস্থিত ছিলেন।

অস্ত্রের লাইন্সেস অনুযায়ী এর মালিক কামরুজ্জামান মিলন, নুর উদ্দিন ইমরান ও আলমগীর হোসেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তা বলে পুলিশ জানায়।

এদিকে, রবিবার দুপুরের দিকে কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুর রহমান একটি মুচলেকা রেখে অস্ত্রগুলো ফেরত দিয়ে তদন্ত কাজের সমাপ্তি ঘটান বলে জানা গেছে।

ওই ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয়রা জানান, জলদস্যু কিংবা কোনো জঙ্গি সংগঠন হানা দিয়েছে- এমন আশঙ্কায় খাজুরা ও আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে রাত ১১টার দিকে প্রতিরোধে এগিয়ে আসেন। এ সময় অস্ত্র প্রদর্শনকারীরা দ্রুত সটকে পড়েন।

পর্যটকসহ সুশীল সমাজের দাবি, একজন সাধারণ মানুষ যদি বৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক ছড়াতেন তাহলে তাৎক্ষণিক তাকে গ্রেফতার করে অস্ত্র জব্ধ করা হতো। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তারা এ ক্ষেত্রে অমানবিক আচরণ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এমন ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

স্থানীয়রা রবিবার সকালে কুয়াকাটা লেম্বুচরের ঘটনাস্থল থেকে দুটি বিদেশি মদের বোতল ও বিভিন্ন অস্ত্রের ব্যবহৃত ১৯ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করে পুলিশের কাছে জমা দেয়। কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিজুর রহমান রবিবার সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসলে আরও এক রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। মদের বোতল ও গুলির খোসাগুলো ওসির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওসি আজিজুর রহমান বিষয়টি স্বীকারও করেছেন।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ মোশফিকুর রহমান জানান, বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সঞ্জয় জানান, শনিবার কুয়াকাটায় বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলন ছিল। এতে কমিশনের অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তারা রাতে অস্ত্র দিয়ে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেন। পর্যটন হলিডে হোমস’র কয়েকটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে তারা অবস্থান করেন।

কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিজুর রহমান জানান, মানবাধিকার কমিশনের কর্মীদের লাইন্সে করা অস্ত্র থেকে শনিবার রাতে ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছে বলে তারা স্বীকার করেছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার রবিবার দুপুরে কুয়াকাটা পর্যটন হলিডে হোমসে সাংবাদিকদের এ প্রসঙ্গে বলেন, শনিবার সকালে আমাদের বিভাগীয় সম্মেলনে অংশ নেওয়া কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকলে তার দায় নিজেকে নিতে হবে। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন এর দায় নেবে না।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ওই সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপি, বিশেষ অতিথি ছিলেন রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, লুৎফুন্নেসা সুলতান এমপি।

সূত্র: দ্য রিপোর্ট

জেএ