বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পরছে ডিম ওয়ালা মা ইলিশ। ফলে ইলিশ প্রজনন মৌসুমের ১১ দিন ইলিশ শিকার নিয়ে মৎস্য বিভাগ ও কোষ্টগার্ড বহিনীর ঝটিকা অভিযান ফলদায়ক নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, মা ও ডিম ওয়ালা ইলিশ রক্ষায় সরকার ও মৎস্য বিভাগ ৫ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ প্রজনন মৌসুম নির্ধারণ করে বঙ্গোপসাগরে ১১ দিন ইলিশ শিকার বন্ধে পদক্ষেপ নেয়। টানা ১১ দিন উপকূলের সাগর-নদীতে অভিযান চালায় মৎস্য ও কোষ্টগার্ড বাহিনীর সদস্যরা। এ উপকূলে প্রায় কোটি টাকার জাল পোড়ানো হয় জেলেদের। একাধিক জেলেকে ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক দেয়া হয় জেল-জরিমানা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি ডিমওয়ালা মা ইলিশদের। প্রজনন মৌসুম পেরিয়ে গেলেও জেলেদের জালে ধরা পরছে মা ইলিশ। সে ক্ষেত্রে আগামীতে ইলিশ শূন্য হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. লোকমান আলী জানান, সারা বছরই ইলিশ মাছ ডিম দিলেও বাংলার আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার ৫ দিন আগে-পরে সব থেকে বেশি ডিম দিয়ে থাকে। সে অনুযায়ী চলতি বছর ৫ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১১ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারী করেছিল সরকার।
তিনি বলেন, মৎস্য গবেষণায় জানা গেছে, ২০১৩ সালে ১১ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ রাখার কারণে ১ কোটি ৬৫ লক্ষ ইলিশ জেলেদের শিকার থেকে রক্ষা পেয়েছে। এর ফলে ৪ লক্ষ ৪৭ হাজার কেজি অতিরিক্ত ডিম উৎপাদন হয়েছে। এই হিসেবে যদি উৎপাদিত ডিমের ৫০ শতাংশ ফোটে এবং উৎপাদিত রেনুর ১০ শতাংশ বেঁচে থাকে সে হিসেবে ২০১৩ সালে প্রায় ২৮ হাজার কোটি অতিরিক্ত জাটকা উৎপাদিত হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ২০০১ ও ২০০২ সালে দেশে যেখানে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লক্ষ ২০ হাজার মেট্রিকটন, সেখানে বর্তমানে ইলিশ উৎপাদন পরিমান দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ৫১ হাজার মেট্রিকটনে। আরো বৃহৎ ভাবে গবেষণার মাধ্যমে ইলিশের প্রজনন মৌসুমের সময় দ্বিগুণ করে ইলিশ শিকার বন্ধের সময়সীমা বাড়াতে হবে। তবে সে ক্ষেত্রে জেলেদের ভর্তুকির বিষয়টিও সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে পটুয়াখালীর নিউমার্কেট মৎস্য ব্যবসায়ী হাওলাদার ফিস এন্টারপ্রাইজ‘র সত্ত্বাধিকারী গোলাম ছরোয়ার লিমন বলেন, সরকার যে সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়, সে সময় বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় জেলে ও উপকূলীয় এলাকার কিছু অসাধু জেলে সাগরে অবাধে মাছ শিকার করে। যে কারণে আমাদের লোকসানে পড়তে হয়।
পটুয়াখালী জেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য অফিসার মোঃ আজাহারুল ইসলাম বলেন, সারা বছরই ইলিশ ডিম দেয়। কিন্তু ৫ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর বেশি পরিমাণে ডিম দেয়। তাই ওই সময়ে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়ে থাকে।
জেআই





