নারায়ণগঞ্জ-৫ ও বরিশাল-৫ আসনের উপনির্বাচন এবং চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত  ১ কোটি ৪৫ লাখ ১০ হাজার  টাকা  বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। গত বুধবার সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এ  আবেদন পাঠানো হয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্টদের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ চাওয়ায় বেকায়দায় পড়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে এ বিষয়ে করণীয় কি তা চূড়ান্ত করতে এ সপ্তাহেই কমিশন বৈঠকে বসছে বলে জানা গেছে।   

ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ ওবরিশাল-৫ আসনের উপনির্বাচন এবং চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে দায়িত্ব পালনাকারী  নির্বাচনী কর্মকর্তা ও  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদর জন্য যে পরিমাণ অর্থবরাদ্দ করা হয়েছিল তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। তাই সকল কর্মকর্তা যাতে অর্থপায় সে জন্য আরও অর্থ বরাদ্দের জন্য অনুরোধ করা হল।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনের জন্য ২৪ লাখ ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকাএবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। 

বরিশাল-৫ আসনের উপনির্বাচনেও ২০ লাখ টাকা  বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যেরিটানিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ৮ লাখ টাকা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে  ১২ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া  চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বেশ কিছুজেলা থেকে   ১ কোটি টাকা  ১ লাখ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রিটানিং কর্মকর্তাদের  পক্ষ থেকে ৪৯  লাখ টাকা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ৫২ লাখ টাকা  বরাদ্ধ চাওয়া হয়েছে।

যেসব জেলার পক্ষ থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে-দিনাজপুর, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও চট্টগ্রা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, খুলনা, বরিশাল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান।

এদিকে সংশ্লিষ্টদের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ চাওয়ায় বেকায়দায় পড়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে এ বিষয়ে করণীয় কি তা চূড়ান্ত করতে এ সপ্তাহেই বৈঠকে বসবে ইসি।  
 
এ বিষয়ে  নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোঃ সাজাহান খান বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে সব উপজেলায় প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে জেলা থেকে অতিরিক্ত কিছু বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। কমিশনের অনুমতি সাপেক্ষে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া হবে।

এ বিষয়ে  নির্বাচন কমিশনারর (ইসি)  মোহাম্মদ আবু হাফিজ বলেন,উপজেলা নির্বাচন শেষ হয়েছে। তবে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অফিস থেকে অতিরিক্ত বরাদ্দ দাবি করে কিছু চাহিদাপত্র এসেছে। আমরা সেগুলোর মধ্যে যৌক্তিক বিবেচনায় কিছু অর্থ ছাড় করবো যাতে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তরা  নিরুৎসাহিত না হন।
উল্লেখ্য, ৭ দফায়  দেশের ৪৮৭ উপজেলার মধ্যে ৪৭৫টিতে নির্বাচন সম্পন্ন করেছে নির্বচান কমিশন।

ঢাকা, এএম, ১৯ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর