বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের গুদিঘাটা বাজারে জাতীয় শোকদিবস পালনের সময় ওসির নির্দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার বন্ধ করা হয়েছে। অবশেষে পণ্ডও করা হয়।

জানা গেছে, সকল আয়োজন সম্পন্ন করে ওই এলাকার ৫ ও ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ। দিবসটি পালনের জন্য গত শুক্রবার রাত থেকে নেতাকর্মীরা মাইকে জাতির জনকের ভাষণ প্রচার করে।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বামনা থানার উপ-সহ পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান ওই ভাষণ বন্ধ করার জন্য নেতাকর্মীদের হুমকি দেয়। পরে এ ঘটনা ওসি ওমর ফারুক জানতে পেরে মোবাইল ফোনে ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ভাষণ প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

ওসির হুমকি ধামকীতে নেতাকর্মীরা জাতীয় শোক দিবসের সকল আয়োজন বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ডৌয়াতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা জলিল হোসেন জানান, গুদিঘাটা বাজারে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কাঙ্গালী ভোজ ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা।

এ উপলক্ষে শুক্রবার রাত থেকে মাইকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ চালান তারা। রাত পৌনে ১২টার দিকে উপ-সহ পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে বামনা থানার পুলিশের একটি দল অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে তাদেরকে মাইকে প্রচারিত বঙ্গবন্ধুর ভাষণ চালাতে নিষেধ করেন।

এসময় ওসি ওমর ফারুক তাদেরকে মুঠোফোনে অনুষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেন। যার ফলে শোক দিবসের আয়োজন বন্ধ রাখতে বাধ্য হন নেতাকর্মীরা।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা বামনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইতুল ইসলাম লিটুকে ঘটনার বিস্তারিত জানালে ক্ষোভে ফেটে পরেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেত্রীবৃন্দ।

এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বামনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইতুল ইসলাম লিটু বলেন, আমাদের দুটি গ্রুপ আলাদাভাবে শোক দিবস পালন করার জন্য গুধিকাটা বাজারে মাইকে জাতির জনকের ভাষণ প্রচার করতেছিল। ওসি ওমর ফারুক উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা না করেই ওই ভাষণ প্রচার বন্ধ করে দেয়।

আমি এ ঘটনার কারণ জনতে চাইলে তিনি আমার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার বন্ধ করার জন্য ওই এলাকায় শোক দিবসের সকল আয়োজন বন্ধ করে নেতৃবৃন্দরা। ওসির এই আচরণের বিচার দাবি করছে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, গুদিঘাটা বাজারে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ একইসঙ্গে শোক দিবসের কর্মকান্ড পরিচালনার আয়োজন করায় এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পরে। তাই আইন শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে তিনি তাদের আয়োজনে বাধা দেন।

এমকে