আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা। এক পশলা বৃষ্টি। মুষলধারে এই বৃষ্টি হয়েছিল মাত্র আধঘণ্টা। আর এতেই হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের সড়ক রূপ নেয় জলাশয়ে। জমে যায় হাঁটু পানি। গোলচত্বর থেকে বিমানবন্দরের টার্মিনালের দিক যেন ছোট একটি খাল চলে এসেছে একে বেঁকে।

অথচ বর্তমানে দেশের সর্ববৃহৎ এই বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ মিলিয়ে প্রতিদিন ১০০টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। প্রতিদিন প্রায় ১৩ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করেন। তাঁদের সঙ্গে ৩-৪ হাজার দর্শনার্থীও আসেন। এ ছাড়াও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চলাচল করায় দিনের ২৪ ঘণ্টাই ব্যস্ত থাকে এই স্থানটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আধঘণ্টার বৃষ্টির পানি জমে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রাঙ্গণের সড়কে। বৃষ্টির পানি জমে বিকল হয়ে পড়ে এই অটোরিকশাটি। কমল জোহা খানগতকালের আধঘণ্টার বৃষ্টির পর সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা কাস্টম হাউসের সামনের সড়ক থেকে বিমানবন্দরের গোলচত্বর পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কটির বেশ কিছু স্থান প্রায় হাঁটু সমান পানিতে টইটম্বুর হয়ে যায়।

বাধ্য হয়ে সে সময় তাই বিমানযাত্রী থেকে পথচারী সবাইকে পানি পেরিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছিল। পানিতে ঢেকে যাওয়া সড়কও ছিল এবড়োখেবড়ো। তাই অনেককে ফুটপাতে উঠতে পড়তে হচ্ছিল বিড়ম্বনায়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা আবুল কালাম নামে এক যাত্রী বলেন, ‘দুবাইও দেখলাম। এখন ঢাকাও দেখছি। নদীমাতৃক বাংলাদেশ নয়, খালমাতৃক দেশের পরিচয় জানতে শাহজালাল বিমানবন্দরই যথেষ্ট।’
পানি জমে থাকায় প্রাইভেটকারের ভেতরে থাকা যাত্রীদেরও স্বস্তি মেলেনি। দীর্ঘ যানজট ছড়িয়ে পড়ে বিমানবন্দরের মসজিদের সামনের সড়ক পর্যন্ত। পানিতে আটকে থাকায় বেশ কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেট কার বিকল হয়ে থাকতে দেখা যায়। ফলে যানজট দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে।
বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে নিরাপত্তায় দায়িত্বরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের এক কর্মকর্তা বলেন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বলতে কিছুই নেই এখানে। তাই অল্প বৃষ্টিতেই নাকাল হতে হয়। একটি গাড়ি নষ্ট হলে অবস্থা আরও বেগতিক হয়। রেকার আনা যায় না।

নালার মুখগুলো মাটি ও বালিতে আটকে থাকে। সিভিল অ্যাভিয়েশন (বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ) থেকে এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না।
পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিচালক শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন জাকির হাসানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।
তবে সিভিল অ্যাভিয়েশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। আগামী মৌসুম থেকে এই এলাকায় আর পানি জমবে না।

এসএ