ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য এবং যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর নির্বাচনী এলাকায় দেশের চারটি মোবাইল কোম্পানি দরিদ্রদের জন্য শাড়ি ও লুঙ্গি দিতে বাধ্য হয়েছে। গত ঈদুল ফিতরের আগে মোবাইল কোম্পানিগুলো প্রায় ৪০ লাখ টাকার এসব সামগ্রী বিতরণ করেছে।

এ বিষয়ে মোবাইল কোম্পানিগুলো কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে মোবাইল সেবাদানকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল অপারেটরস বাংলাদেশ (অ্যামটব) বলেছে, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এটা করা হয়েছে। তবে এর আগে কখনো এভাবে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করেনি মোবাইল কোম্পানিগুলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মন্ত্রীর কারণে মোবাইল কোম্পানিগুলো শাড়ি-লুঙ্গি দিতে বাধ্য হলেও তারা কৌশল করে তা অ্যামটবের মাধ্যমে দিয়েছে।

আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইল-৪ এলাকাধীন কালিহাতী উপজেলা চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম তালুকদার গত রমজানের শেষ সপ্তাহে অ্যামটব বরাবর একটি আবেদন করেন। এলাকার দরিদ্র মানুষের জন্য শাড়ি ও লুঙ্গি চেয়ে করা ওই আবেদনটি টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর ওই সময়ের সহকারী একান্ত সচিব মাসুম আহমেদ (বর্তমানে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) ই-মেইলে অ্যামটবের কাছে পাঠান।

অ্যামটবের মহাসচিব নুরুল কবীর ওই ই-মেইলটি চারটি মুঠোফোন কোম্পানির কাছে পাঠিয়ে দেন।
চারটি কোম্পানি গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, এয়ারটেল ও রবির পক্ষ থেকে ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ অনুমোদন করা হয়।

জানা গেছে, গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে দুই হাজার ১০০ শাড়ি ও সমানসংখ্যক লুঙ্গি, বাংলা লিংকের পক্ষ থেকে এক হাজার শাড়ি ও এক হাজার লুঙ্গি, রবি ও এয়ারটেলের পক্ষ থেকে ৫০০ করে শাড়ি ও লুঙ্গি বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে রবি ও এয়ারটেল শাড়ি ও লুঙ্গি কিনে অ্যামটবের কাছে সরবরাহ করে। গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক তাদের বরাদ্দ করা পণ্য কেনার জন্য অ্যামটবকে টাকা দিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুম আহমেদ বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান তাঁর আবেদনটি অ্যামটবের কাছে পৌঁছানোর অনুরোধ করলে তিনি ই-মেইলে পাঠিয়ে দেন। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

অ্যামটবের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল কবীরের কাছে জানতে চাইলে শুরুতে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দরিদ্রদের মধ্যে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণের কথা স্বীকার করেন তিনি। তিনি দাবি করেন, কালিহাতী উপজেলা চেয়ারম্যানের আবেদনটি গ্রহণ করা হয়নি। তাই তাঁর কাছে কোনো পণ্য বা টাকা হস্তান্তর করা হয়নি। মোবাইল কোম্পানিগুলো করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল থেকে দরিদ্রদের জন্য শাড়ি ও লুঙ্গি দিয়েছে।

কারা এসব পণ্য বিতরণ করেছে—জানতে চাইলে নুরুল কবীর বলেন, বেসরকারি একটি সংস্থা এবং অ্যামটবের নিজস্ব উদ্যোগে ওই সব শাড়ি ও লুঙ্গি দরিদ্র মানুষের কাছে বিতরণ করা হয়।

কালিহাতী উপজেলা চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলাকার দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করে তিনি অ্যামটবের কাছে সহায়তার আবেদনটি করেন। অ্যামটবের কাছে কেন আবেদন করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আমাদের এলাকার, সে কারণে মন্ত্রীর লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে এ আবেদন করেছি।’

নিজে আবেদন করলেও তাঁর হাতে কোনো পণ্য দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন মাজহারুল ইসলাম। অ্যামটব একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে ওই সব পণ্য বিতরণ করেছে বলে তিনি জানান। কোন এনজিওর মাধ্যমে এসব পণ্য বিতরণ করা হয়েছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এনজিওর নাম মনে নেই’।

এএইচ