ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে রাজধানীর বকশিবাজার ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করছে।

শেষ খবর পাওয় দুপুর ১ টা পর্যন্ত ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলছিলো। এ ঘটনায় পুলিশসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ১০ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে বকশী বাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়ার যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সংঘর্ষের সূত্রাপাত হয়। পরে তা বকশী বাজার মোড়সহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বকশী বাজার মোড়ে খালেদা জিয়া আদালত চত্বরে যাওয়ার খবরে মিছিল বের করে ছাত্রদল। এসময় বুয়েট ছাত্রলীগের কর্মীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল ছুড়ে।

পরে তা পলাশী মোড়, নাজিম উদ্দিন রোড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, চান খাঁর পুল মোড়সহ এর আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুলিশসহ প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফজলে রাব্বী হলের সামনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে ও টিয়ারশেল ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশ ৫-৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে পলাশী থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক জানান, হাতে মাথায় আঘাত নিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আসছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ দিকে এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতরা হলেন, রিপন মণ্ডল, সোহেল, আরিফুল ইসলাম এবং ‍আল আমিন।

লালবাগ থানার এসআই ডেরিক জানান, ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

জেএ