ঢাকার দুই সিটি (উত্তর ও দক্ষিণ) এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাম্ভাব্য প্রার্থীরা আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে পথ সভা বা ঘরোয়া সভা ছাড়া কোন জনসভা বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। এমনকি জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে এমন কোন সড়কে প্রার্থী বা তার পক্ষে কোন পথ সভা এবং মঞ্চ তৈরিও নিষিদ্ধ।
এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দের আগে সীমিত পরিসরে প্রচারণার সুযোগ পাবেন। ১০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দের পর আচরণ বিধিমালা মেনে পুরোদমে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালায় বলা হয়েছে, ‘কোন প্রার্থী বা তাঁর পক্ষ হইতে কোন ব্যক্তি ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়ের একুশ (২১) দিন পূর্বে কোন প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করিতে পারিবেন না।’ এ বিধান অনুসারে আজ সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চালানো শাস্তি যোগ্য অপরাধ।
গত ২৯ মার্চ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখার পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এ সময়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন করে দেয়া হয়। এ বিষয়ে এস এম আসাদুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, আগামী মঙ্গলবার থেকে সাম্ভাব্য প্রার্থীরা আচরণ বিধি মেনে প্রচার চালাত পারবেন।
ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পরই নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর নিয়ম পালিত হয়ে আসছিল; কিন্তু এবারই নির্বাচন কমিশন ‘একুশ’ দিনের বিধানটি করেছে।
তবে গত ১৮ মার্চ এ তিন সিটির নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আগে থেকেই সাম্ভাব্য প্রার্থীদের বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার নিয়ে বিপাকে পড়ে নির্বাচন কমিশন। কমিশন এসব সরিয়ে নিতে সময় বেঁধে দিলেও তেমন সুফল মেলেনি। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আচারণ বিধি লঙ্ঘনকারীদের কারণ দর্শানোর নেটিস দিয়েই দায় সেরেছেন। তিন সিটিতে তিনদিন বৈঠক করবেন সিইসি।
এদিকে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও সকল কাউন্সিলর প্রার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ ও অন্য কমিশনাররা। আগামী ১১ এপ্রিল চট্টগ্রাম, ১২ ও ১৩ এপ্রিল ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণে সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখার পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান জানান, ১১ এপ্রিল চট্টগ্রামের মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে এবং ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ১২ ও ১৩ এপ্রিল মতবিনিময় সভা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য, নির্বাচন কমিশন সচিবও উপস্থিত থাকবেন।
চট্টগাম সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং অফিসার আবদুল বাতেন জানান, চট্টগ্রামে ১১ এপ্রিলের সভায় সিইসির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জে, (অব.) জাবেদ আলী ও শাহ নেওয়াজ উপস্থিত থাকতে পারেন বলে তাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রার্থীরা যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলেন, সে জন্য এই মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে। সভায় প্রার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনবেন সিইসি। এছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে তাদের মতামত নেয়া হবে। সেই অনুযায়ী সমস্যা চিহ্নিত করে তিন সিটিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
বিবিসিকে সংলাপের প্রস্তাব: ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (বিবিসি) বাংলা বিভাগকে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে সংলাপ করার প্রস্তাব দিয়েছে ইসি। তবে এ জন্য ইসি কোন অর্থায়ন করবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও বেশ কয়েকটি সিটি নির্বাচনে বিবিসি মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে সংলাপের আয়োজন করেছিলো।
জেআই





