মাদারীপুরে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ ইউপি সদস্য শওকত মাতুব্বর (৪৫) মারা গেছেন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই মাস ১০দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (২৬ জুন) রাত ২টায় মারা যান তিনি।
নিহত শওকত মাতুব্বর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের চাপাতলী গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ছিলেন।
নিহত শওকতের ভাগিনা রাসেল জানান, তার মামা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় আড়াই মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর শনিবার রাত ২টার দিকে মারা গেছেন। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকেলে মস্তফাপুরে চাপাতলী তার নিজ এলাকায় জানাজা শেষে দাফন করা হবে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, তিনি মারা গেছেন বলে শুনেছি। তাকে ফরিদপুর কারাগারের আন্ডারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাখা হয়েছিল। মরদেহ ফরিদপুর থেকে মাদারীপুর আনার পর ময়নাতদন্ত করে জানা যাবে তিনি কীভাবে কি মারা গেছেন।
ওসি আরো জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে ওই গ্রামে মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
৩১ মার্চ মস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী কুদ্দুস মল্লিক জয়ী এবং আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী সোহরাব খান পরাজিত হন। নির্বাচনের পর থেকেই দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। এরই জের ধরে ১৬ এপিল আওয়ামী লীগের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
এসময় ছয়টি বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ধাওয়া করে চাপাতলী গ্রামে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ ১২ রাউন্ড গুলি ছুঁড়লে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে শওকত মাতুব্বর (৪৫), আলী আজগর মাতুব্বর (২৭), জুয়েল মল্লিক (২৮) গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় আহত হন আরো সাতজন। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এবং সাতদিন চিকিৎসা দেওয়ার পর জুয়েল মল্লিক নামে একজন ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান।
ওএফ





