চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারায়এলাকায় এস আলম গ্রুপেরকয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে-বিপক্ষে ও পুলিশের সাথে ত্রিমুখী সংঘর্ষেপুলিশের গুলিতে৪জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন গণ্ডামারা ইউনিয়নের চরপাড়ার দুই ভাই মর্তুজা আলী ও আনোয়ারুল ইসলাম, একই ইউনিয়নের জাকের আহমদ এবং মোহাম্মদ জাকির হোসেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের স্থানীয় হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, গ্রামবাসী পুলিশকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ হয়। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। এ দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সোমবাররাত ৯টায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

প্রত্যদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করে স্থানীয় একটি পক্ষে সোমবার ‘বসতভিটা রক্ষা কমিটির’ ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়। এর পাল্টা হিসেবে তাদের বিরোধীপক্ষও সমাবেশ ডাকে।

উভয়পরে সংঘর্ষের আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন ওই এলাকায় সমাবেশের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করে। দুপুরে ওই এলাকায় পুলিশ অবস্থান নিলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধীরা পুলিশের ওপর হামলা করে। পুলিশ চলে আসতে চাইলে রাস্তা অবরোধ করে হামলা চালায় তারা।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, এ সময় বিুব্ধরা পুলিশকে লক্ষকরে গুলি চালায়। পুলিশও আত্মরার্থে পাল্টা গুলি চালায়। দুইপরে গোলাগুলিতে সাত পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘তিনজন নিহত হওয়ার কথা শুনেছি। কিন্তু কোনো ডেডবডি পাইনি; সন্ধান চলছে।’

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন নিহতের খবর শুনেছি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ১১ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য এবং ৯ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মো: রেজাউল হক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত ১৯ জনকে ভর্তি করা হয়। তাদের অধিকাংশই পুলিশ।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, বাঁশখালীতে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত মুজিবুল হক ও আনসার উদ্দিনকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তাদের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ও ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম হাফিজ আক্তার গতকাল রাত পৌনে ৯টায় বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে প্রশাসনের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করায় পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের ওপর হামলা করে এলাকাবাসী। এ সময় পুলিশ গুলি ছুড়লে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। এমনকি পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, মাসখানেক ধরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে-বিপক্ষে মিছিল, সমাবেশ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটছিল।

জানা গেছে, বেসরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা পশ্চিম বড়ঘোনায়। চায়না সেবকো এইচটিজির সাথে যৌথভাবে ৬০০ একর জমির ওপর ২০ হাজার কোটি টাকার এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে এস আলম গ্রুপ।

কয়লাভিত্তিক এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৭০ শতাংশের মালিকানা চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের, ৩০ শতাংশের মালিকানা থাকবে দু’টি চীনা প্রতিষ্ঠানের।

এমবি