৩০৬টি উপজেলায় মডেল স্কুল স্থাপন প্রকল্পে শিক্ষা সামগ্রীর বরাদ্দের ৪৫০ কোটি টাকা লোপাট ও দুর্নীতির অনুসন্ধান গত ৩ বছরেও শেষ করতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অর্থাৎ দুদকেক পাত্তা দিচ্ছেনা ওই প্রকল্পের সংশ্লিস্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা।


অবশেষে আগামী ৮ মাচের মধ্যে সকল নথিপত্রসহ হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছে দুদকের অনুসন্ধানী টিমের কর্মকর্তারা।

জানা যায়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের (ইইডি) দুর্নীতিবাজ চক্রের সহায়তায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো ওইসব স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, কম্পিউটার সরবরাহ, কম্পিউটারের প্রিন্টার ও টোনার সরবরাহ, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, ফটোস্ট্যাট মেশিন, স্কুলের লাইব্রেরির জন্য বই ও আসবাবপত্র সরবরাহের নামে নিন্মমানের পণ্য এবং যন্ত্রপাতির পরিবর্তে বাচ্চাদের খেলনা সামগ্রী সরবারহেরমাধ্যমে পুরো অর্থ লোপাট করেছেন।

২০১১ সাল থেকে দুদক অনুসন্ধানে নামলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ ও টেনোক্রেট এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অভিযোগ সুষ্ঠু অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র উদ্ধার করতে পারেনি।

দুদকের চাহিদার মধ্যে রয়েছে, টেন্ডার সংক্রান্ত নথিপত্র, সরঞ্জাম আমদানির কাজগপত্র ও সকল তথ্য প্রদানের জন্য চিঠি। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা ওইসব নথিপত্র দুদককে সরবারহ করেনি।
জানা যায়, যন্ত্রপাতি লোপাটের ঘটনায় নথিপত্র সরবারহে ২০১২ সালে দুদকের পক্ষ থেকে বার বার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ ও টেনোক্রেটের মালিক মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু রেকর্ডপত্র সরবরাহ করেননি।

উল্টো দুদকের নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে ওই বছর হাইকোর্টে রীট পিটিশন (রীট পিটিশন নং- ১৫৬৩২) দায়ের করেন। পরে ২০১৪ সালের ১২ জুন তাদের ওই রিট খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু তারপরও ওই প্রতিষ্ঠান দুদককে রেকর্ডপত্র সরবরাহ করছে না।

দুদকে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে: ডেলটা সিস্টেম নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মডেল স্কুলে কম্পিউটার সরবরাহের কাজ নেয়। ফটোস্ট্যাট মেশিন সরবরাহের কাজ নেয় অপর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শর্তভঙ্গ করে নিম্ম মানের মেশিন সরবরাহ করে।

৩০৬ উপজেলায় নবনির্মিত বেসরকারি মডেল স্কুলে রূপান্তর’ শীর্ষক প্রকল্পে প্রতি স্কুলে ১০টা করে কম্পিউটার সরবরাহের কথা থাকলেও কোনো স্কুলে ৯টি, কোনো স্কুলে ৮টি আবার কোনো স্কুলে কম্পিউটার সরবরাহই করা হয়নি। আবার সফটওয়্যার দেওয়া হয়নি।

ফলে কম্পিউটার খুলে কেবল কম্পোজ করা ছাড়া আর কোনো কাজ শিক্ষার্থীরা করতে পারছেন না। কম্পিউটারের সঙ্গে প্রিন্টার ও অতিরিক্ত টোনার দেওয়ার কথা, তাও দেওয়া হয়নি।
আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, মেরামত, সংস্কার ও আসবাবপত্র সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর।

জানা যায়, ৩০৬টি উপজেলায় একটি করে মডেল স্কুল স্থাপন প্রকল্পের নামে বরাদ্দের ৪৫০ কোটি টাকার শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহে দরপত্র দেওয়া হয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণাধীন মডেল স্কুল প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণ ছাড়াও কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং শিক্ষা সহায়ক নানা সামগ্রী সরবরাহের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

স্কুলের জন্য বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি সরবরাহের কাজ পান বনানীর ‘ল্যাক্সিকন’ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর কর্ণধার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু স্কুলে স্কুলে বৈজ্ঞানিক যন্ত্র টেলিস্কোপ সরবরাহ না করে প্রধান শিক্ষকদের ঢাকায় তলব করে নিয়ে আসেন। পরে তার টঙ্গীর গোডাউন থেকে কাগজের ঠোঙাবন্দি (কার্টন) অবস্থায় মালামালের একটি করে ব্যাগ তাদের হাতে তুলে দেন।
একে