ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকার গতকাল দুই দিনের সফরে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। এরপর থেকে তার কোন খবর সাংবাদিকরা প্রকাশ করার সুযোগ পাননি। অবশেষে আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী । সাক্ষাতের খবর প্রকাশ করে বাসস

বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তাঁর আসন্ন ভারত সফরকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর বীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোরও আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো প্রকার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বরদাশত করব না এবং কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় আমাদের দেশের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করতে দেব না।’

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সহযোগিতা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ছিল এবং আমরা সেই সহযোগিতাটাই করেছি।’

সম্প্রতি বাংলাদেশি জেলেদের উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করায় প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় কোস্টগার্ডকেও ধন্যবাদ জানান। এ সময় ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের কোস্টগার্ডের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

পারিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের, বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নে প্রভূত উন্নতি করেছে, যা ভারত এখনো করতে পারেনি। বৈঠকের শেষ অংশে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে অংশ নেওয়া ভারতীয় হেলিকপ্টারের একটি রেপ্লিকা এবং যুদ্ধকালীন ছত্রীসেনাদের অপারেশন পরিচালনার আলোকচিত্র প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জারিফ