নাটোরের বড়াইগ্রামের অদম্য মেধাবী লাভলী, আয়শা আর মুক্তিয়ারা দারিদ্রের সঙ্গে নিত্য সংগ্রাম করে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। দৈন্য আর নানা প্রতিবন্ধকতাকে পেরিয়ে আসতে পারলেও উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা সে আশঙ্কায় তাদের আনন্দ ম্লান হতে চলেছে।

চকপাড়া গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক হাবিল মন্ডলের মেয়ে লাভলী এবার বড়াইগ্রাম মহিলা কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার বাবা কোমড়ে আঘাত লেগে শয্যাশায়ী। মা জরিনা বেগমও হাড় ক্ষয় আর কিডনি সমস্যায় ভূগছেন। চিকিৎসা আর সংসারের ব্যয় মেটাতে গিয়ে বাড়ির ভিটা পর্যন্ত বিক্রি করে দিতে হয়েছে তার। বর্তমানে কোন রকমে দিন কাটছে তাদের।

অসুস্থ বাবা-মায়ের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার জন্য লেখাপড়া শিখে লাভলী একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চায়।

মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে আয়শা। তার বাবা নুরুল ইসলাম নৈশ প্রহরী হিসেবে কাজ করেন। মাড়িয়া গ্রামে তাদের বাড়ি। মৌখাড়া ইসলামিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী আয়শা এসএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছে। বড় হয়ে সরকারি কলেজের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন তার।

আয়শার বাবা স্থানীয় বেসরকারি জননী হাসপাতালের নাইট গার্ড। বাড়ি ভিটাসহ ৩৩ শতক জমি আছে তার। সামান্য বেতনে সংসার খরচ চালানোই তার জন্য কষ্টকর, সেখানে মেয়ের উচ্চ শিক্ষার ব্যয় মেটানো তার জন্য একেবারেই অসাধ্য।

একই গ্রামের দরিদ্র রাজমিস্ত্রী আলম সরকারের মেয়ে বড়াইগ্রাম মহিলা কারিগরী এন্ড বিএম কলেজের ছাত্রী মুক্তিয়ারা খাতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে। অন্যের অট্টালিকা গড়ে দিলেও আলম সরকারের নিজের কিছু নাই। একখন্ড খাস জমিতে ঘর তুলে বাস করছেন।

ঢাকা, ১৮ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই