১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন এরশাদ। ১৯৮৪ সালে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উপজেলা পদ্ধতির প্রচলন করেন। উপজেলা পরিষদসমূহের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের মে মাসে।
১৯৮৮ সালে ধর্মীয় মূল্যবোধের কথা চিন্তা করে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণার মাধ্যমে এরশাদ বাংলাদেশকে এক নতুন পরিচয় দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বৃহত্তর মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে নতুনভাবে পরিচয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্রঘোষণা করায় মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এছাড়াও সরকারিভাবে মসজিদের বিদ্যুতের বিল মওকুফ ও শুক্রবারকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণার কারণে মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে ক্রমেই প্রিয় ব্যক্তি হয়ে ওঠেন।
ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা দেয়াটা এক কথায় খুব সহজ ছিলো না। স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সংবিধান রচনা করা হয় ১৯৭২ সালে। তখন সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের কথা উল্লেখ ছিল না। ১৯৮৮ সালের ৫ জুন চতুর্থ জাতীয় সংসদে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী পাস হয়। সেই সংশোধনীতে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রথম উদ্যোগ এরশাদই নিয়েছিলেন। ওই সংশোধনীতে সংবিধানের ২ নম্বর অনুচ্ছেদের পরেই ২(ক) নম্বর অনুচ্ছেদ যোগ করা হয়। এতে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে।’
বাংলাদেশে মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খিস্টানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন, যে কোনো সরকারের উচিত সব সম্প্রদায়ের মাঝে সম্প্রীতি বজায় রেখে সবার ন্যায্য হিস্যা মোতাবেক সেবা প্রদান করা।
সে লক্ষ্যে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করলেও সঙ্গে সঙ্গে অন্য ধর্মাবলম্বীদের স্বার্থের বিষয়টিও জেনারেল এরশাদ সংবিধানে যোগ করেছিলেন।
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন। ১৯৮৪ সালে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উপজেলা পদ্ধতির প্রচলন করেন। উপজেলা পরিষদসমূহের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের মে মাসে।
১৯৮৬ সালে এরশাদ জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৬ সালের সংসদীয় নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
এসএম





