মাগুরা সদর উপজেলার উলিনগর গ্রামে ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি ও কুপিয়ে জখম করার ঘটনার পর গণপিটুনীতে আহত সেই চাঁদাবাজের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের নাম সাদ্দাম হোসেন (২৩)। শনিবার দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রোববার সকালে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সদর থানায় দায়েরকৃত মামলার বরাত দিয়ে অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মুন্সি আছাদুজ্জামান জানান, একটি চাঁদাবাজ গ্রুপ গত বুধবার বিকালে উলিনগর গ্রামে একটি মুড়ি তৈরীর মিলে হানা দেয়। এ সময় তারা মিল মালিক নীলকান্ত বিশ্বাসের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা নীলকান্তকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এক পর্যায়ে মিলের ভেতরে কর্মরত নারী-পুরুষ শ্রমিকরা বিষয়টি টের পেয়ে চাঁদাবাজদের ধাওয়া দেয়।
এ সময় শ্রমিকদের হাতে মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকার সাদ্দাম আটক হয়। এলাকাবাসী তাকে বেঁধে গণপিটুনী দিয়ে থানায় খবর দেয়। পুলিশ আসার আগেই বাগবাড়িয়া গ্রামের রহিম বিশ্বাসের ছেলে বদিয়ার রহমান একাধিক মোটরসাইকেলে তার বাহিনী নিয়ে জনতার হাতে চাঁদাবাজীর অভিযোগে আটক সাদ্দামকে ছিনিয়ে নেয়। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা ও পরে ফরিদপুর নেওয়া হয়। অবস্থার আরো অবনতি হলে সেখান থেকে পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করে। পরে শনিবার দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার চাঁদাবাজী ও হামলার অভিযোগে মিল মালিক নীলকান্তর ভাই নিমাই বিশ্বাস মাগুরা সদর থানায় সাদ্দাম ও বদিয়ারসহ ৭-৮ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ শুক্রবার বদিয়ারকে আটক করেছে।
মাগুরার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কেএইচ





