বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে জড়িয়ে শ্বশুরের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মিন্নি।
আজ রোববার বেলা ১২টার দিকে মিন্নি তার বাবার বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে।
মিন্নি তাঁর শ্বশুর দুলাল শরীফের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত ১০ দফা দাবিকে অসত্য দাবি করে বলেছেন, নয়ন বন্ডের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়নি। ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর নয়ন বন্ড তার সহযোগীদের নিয়ে আমাকে একটি ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ভয় দেখিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন। দুই মাস আগে দুই পরিবারের কর্তা ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে রিফাত শরীফের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাতে তাঁর শ্বশুরের সংবাদ সম্মেলন এবং আজ সকালে তাঁর বিরুদ্ধে মানববন্ধনের পর তিনি এই পদক্ষেপ নেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে মুখ খোলেন তিনি।
রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরে নয়ন বন্ড কাবিননামা বের করে আমাকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাতে থাকে।
আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি অভিযোগ করেন, ‘নয়ন বন্ড একজন মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী। তাঁর নামে অনেক মামলা ছিল। সে আমাকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করত। আমার ছোট ভাই ও বাবাকে হত্যার হুমকি দিত। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কখনো মুখ খোলার সাহস পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘আমার শ্বশুর অসুস্থ। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমার স্বামীকে হত্যার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে নিয়ে নেতিবাচক, কুরুচিপূর্ণ নানা পোস্ট এবং এডিট করা ছবি আপলোড করে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর মূল উদ্দেশ্য এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা। কারণ, ০০৭ সন্ত্রাসী গ্রুপটি যারা সৃষ্টি করেছিলেন, তাঁরা খুবই ক্ষমতাবান ও বিত্তশালী।’
মিন্নি দাবি করেন, তিনি তাঁর স্বামী হত্যা মামলার ১ নম্বর সাক্ষী। তিনি তাঁর স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চান। অথচ তাঁর শ্বশুর দুলাল শরীফ ষড়যন্ত্রকারীদের প্ররোচনায় পড়ে তাঁকে জড়িয়ে বানোয়াট কথা বলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন
ফেসবুকে আপনার নামে গত ২৭ জুন ১১টি আইডি দেখা যায়, গতকাল শনিবার রাতেও চারটি আইডির সন্ধান পাওয়া যায় এগুলো কি আপনার?
মিন্নি বলেন, ‘এগুলো সবই ষড়যন্ত্র। কোনো সুস্থ ব্যক্তি এটা করে? আমাকে নেতিবাচকভাবে প্রচারের জন্যই এসব করা হয়েছে। এসব কারা করেছে, তা তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে।’
রিফাত শরীফের বাবার অভিযোগ
এর আগে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে গতকাল শনিবার রাতে বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহত রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ।
মিন্নিকে গ্রেপ্তারের দাবির বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন জানান, সব কিছু যথাযথ তদন্তের মধ্য দিয়ে আইনানুগভাবে করা হবে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বেলা তিনটার দিকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিফাতের মৃত্যু হয়। পরের দিন এই ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা থানায় ১২ জনের নামে এবং চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
এএস





