পুলিশ হেফাজতে ইয়াসমিন হত্যার ২১তম বর্ষপূর্তি আজ। ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট দিনাজপুরে ১০ মাইল নামক স্থানে পুলিশ হেজাফতে ধর্ষিত ও নিহত হন তরুণী ইয়াসমিন। এই হত্যাকাণ্ড স্মরণে প্রতিবছর এই দিনে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয় ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’।
দিবসটি উপলক্ষে এ বছরও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিভিন্ন সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, মিছিল, ইয়াসমিনের কবর জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা।
জানা গেছে, ঘটনার দিন দিনাজপুর শহরের রামনগর নিবাসী ইয়াসমিন ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওগামী কোচযোগে দশ মাইলে এসে নামেন। সেখান থেকে তাকে জোরপূর্বক কোতয়ালী থানার একটি পেট্রোল পিকআপে উঠিয়ে নেওয়া হয়। এর ঘণ্টাখানেক পরে দশ মাইল হতে ৫ কিলোমিটার দূরে ইয়াসমিনের বিবস্ত্র লাশ পাওয়া যায়।
এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে মানুষ। ২৭ আগস্ট জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি করলে ৭ নিরীহ লোক মারা যান।
এদিকে ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে সিআইডি ৯৬ সালের ১৪ মে তত্কালীন এসআই মইনুল, কনস্টেবল সাত্তার ও ড্রাইভার অমৃত লালসহ সাত জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে চার্জশিট দাখিল করে।
দীর্ঘ ১২৩ দিনের শুনানি এবং ৪৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ৯৭ সালের ৩১ আগস্ট মইনুল, সাত্তার এবং অমৃতের ফাঁসির নির্দেশ দিয়ে বিচারক এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। পরে দিনাজপুর জেলা পরিষদ ইয়াসমিনের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য দশ মাইল মোড়ে একটি স্মৃতি ভাস্কর্য স্থাপন করে।
এমএনজে





