শীতের শুরুতেই খেজুর গুড় তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার গাছিরা।
সকাল হলেই মিষ্টি গুড়ের ঘ্রাণে ভরে ওঠে চারপাশ। খেজুর রস আর গুড়ের স্বাদ পেতে সকাল থেকেই কৌতূহলী শিশু-কিশোরদের ভিড় জমে গাছিদের বাড়িতে।
চারঘাট উপজেলার ভায়ালক্ষ্মীপুর, কালুহাটি, নন্দনগাছি, বড়বড়িয়া প্রভৃতি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলাজুড়ে চার শতাধিক পরিবার খেজুরের রস সংগ্রহের পর গুড় তৈরিতে ব্যস্ত।
মীরগঞ্জ বারশতপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদ জানান, অন্যান্য সময় নানা পেশায় নিয়োজিত থাকলেও শীত মৌসুমে তারা গুড় তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন। তৈরি গুড় বাজারে বিক্রি করে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করেন অনেকে। কেননা মৌসুমি পিঠা-পুলি বানাতে এ গুড়ের জুড়ি মেলা ভার। তিনি আরও জানান, কোনো কোনো গাছি খেজুর গাছ বর্গা নেন।
গাছের মালিককে অর্ধেক দেওয়ার পর বাকি রস দিয়ে তারা গুড় বানান। যারা গাছের মালিক তারা অনেকেই সংসারের প্রয়োজন মেটানোর পর বাড়তি গুড় রেখে দেন পরবর্তী সময়ে বেশি দামে বিক্রির আশায়। অনেকে আবার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রি করেন।
কালুহাটি গ্রামের বাবু আলী জানান, কেজিপ্রতি গুড় প্রকারভেদে ৪৫ টাকা থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সব গুড় এ মৌসুমে বিক্রি করেন বাবু আলী। তাতে বেশ লাভ হয় বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, চারঘাট বাজার এবং নন্দনগাছীর হাটে সোম ও শুক্রবার হাট বসে। সেখানেই গুড় বিক্রি করা হয়।
ভায়ালক্ষ্মীপুর গ্রামের ফজলুল হক বলেন, ‘আমি প্রায় দেড়শ গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছি। সাধারণত একটি গাছ থেকে আধা কেজি রস পাওয়া যায়। যে সব গাছ বেশি রস দেয় তা থেকে কোনো কোনো সময় দেড় কেজি গুড় পাওয়া যায়।’
নন্দনগাছীর হাটে সোমবার (১ ডিসেম্বর) গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দূরদূরান্ত থেকে পাইকাররা এসে গুড় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কথা হলো রাজশাহী থেকে আসা ব্যাপারি আসাদুল হকের সঙ্গে।
গুড় কিনে কী করেন জানতে চাইলে গাল ভরে হেসে তিনি বলেন, ‘এত গুড় দিয়ে কী করব? খুচরা ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হবে।’
‘কাদের কাছে বিক্রি করেন?’-প্রশ্নের উত্তরে আসাদুল হক বলেন, ‘সবাই তো গুড় বানাতে পারে না। তারা কিনে নিয়ে পিঠা-পায়েস বানায়।’
চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুল আলিম বলেন, ‘খেজুর রসে নিপাহ ভাইরাস থাকে। কিন্তু যে পরিমাণ তাপে গুড় তৈরি হয় তাতে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা থাকে না।
জেআই





