বর্ষ বিদায় আর নতুন বছরের আগমনকে উপলক্ষ করে প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের ব্যবসায়ীরা। গত দুবছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার ক্ষতিও পুষিয়ে নিয়েছেন হোটেল-মোটেল এবং রিসোর্টগুলো।

তবে দুদিনের হরতাল বা বিরূপ আবহাওয়া না থাকলে ব্যবসার পরিমাণ পাঁচশ’ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্ষ বিদায় এবং নতুন বছর বরণ করে নেওয়াকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ ধরে বুকড রয়েছে কক্সবাজারের চারশ’র বেশি হোটেল-মোটেল এবং রিসোর্ট। আগে থেকে বুকিং ছাড়া যে সব পর্যটক কক্সবাজারে গিয়েছিলেন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া পরিশোধ করতে হয়েছে তাদের। সে হিসাবে অন্তত দেড়শ’ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে এসব হোটেল মালিকদের।

কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এই বছর আমাদের মধ্যে আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে। শুধুমাত্র থার্টিফার্স্টকে ঘিরেই কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট মিলিয়ে এক থেকে দেড়শ’ কোটি টাকার মতো ব্যবসা হয়েছে আমাদের।’

শুধু হোটেল-মোটেল কিংবা রিসোর্ট নয়। জমজমাট ছিলো বার্মিজ মার্কেটগুলোও। আর সৈকত এলাকার দোকানগুলোও ছিলো ক্রেতায় পরিপূর্ণ। বিশেষ করে বার্মিজ আচার, বাদাম, আদিবাসী পোশাক, শামুক-ঝিনুকের ঘর সাজানোর উপকরণ এবং শুঁটকিসহ স্থানীয় অনেক পণ্যের কেনা-বেচায় সরগরম ছিলো এসব মার্কেট।

সৈকতে সী-ইন পয়েন্টে বার্মিজ পণ্য বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে সব ধরনের বার্মিজ পণ্য বিক্রি হয়। পর্যটকদের চাহিদা থাকায় বার্মিজ পণ্য এনে দোকানকে সাজিয়েছি। পর্যটক থাকায় বেচা বিক্রিও বেশ ভালো হচ্ছে।’

লাবণী পয়েন্টের আচার ব্যবসায়ী রমজান বলেন, ‘গত ১০ দিন ধরে বেচা-বিক্রি বেড়েছে। প্রতিদিনই পর্যটকদের কাছে প্রায় ৫০ হাজার টাকার অধিক আচার বিক্রি করছি। এতে আমাদের সুদিন ফিরছে বলে মনে হচ্ছে।’

ইলিয়াছ নামের শুঁটকি ব্যবসায়ী বলেন, ‘গত ২ বছর আমাদের তেমন ব্যবসা ভালো হয়নি। কিন্তু বর্তমানে বেচা-বিক্রি বেড়েছে এবং ব্যবসাও ভালো হচ্ছে।’

তবে কক্সবাজার চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আব্দুল শুক্কুর বলেন, ‘থার্টিফার্স্ট নাইটের সময় দুদিনের হরতাল এবং বিরূপ আবহাওয়া না থাকলে আরো বেশি পর্যটক আসতো এখানে। আর ব্যবসার পরিমাণ অন্তত আড়াইশ’ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত।’

জেআই