দিন ঘনিয়ে আসছে পৌরসভা নির্বাচনের। তাই প্রার্থীরা দিন-রাত ভোটাররদের কাছে গিয়ে চালাচ্ছেন বিরামহীন প্রচারণা। দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনকে ঘিরে পৌরসভায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ ।

ময়মনসিংহের ৯ পৌরসভায় ৬টিতেই আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জ করে বিদ্রোহী হওয়ায় অনেকটাই ব্যকফুটে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থীরা। এতে করে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থীদের গলার কাঁটা আওয়ামীলীগই। এদিকে ২টি পৌরসভা বাদে সবকটিতেই একক প্রার্থী রাখতে পারায় বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপির প্রার্থীরা।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভা নির্বাচনে বর্তমান মেয়র হয়েছিলেন এ.বি.এম আনিসুজ্জানকে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন না দেওয়ায় বিদ্রোহী হয়েছেন তিনি। দলীয় স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আলীর কুটকৌশলে আনিসের বদলে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন স্থানীয় উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জুয়েল সরকার। উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আনিসকে সমর্থন না দিলেও ভিতরে ভিতরে কাজ করছেন জুয়েলের বিরুদ্ধেই। এতে করে ভোটের মাঠে বিপযস্ত হয়ে পড়ছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জুয়েল। আর একক প্রার্থী হয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিন সরকার।

গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচনেও আওয়ামীলীগের দল মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম। বর্তমান এমপি ক্যাপ্টেন (অব:) মুজিবুর রহমান ফকির তাকে জিতিয়ে আনার চেষ্টা করলেও বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিদ্রোহী শফিকুল ইসলাম হবি। এখানে মূলত ভোটের লড়াই হবে ত্রিমুখী। বিএনপি’র একক প্রার্থী সুজিত কুমার দাস শাসক দলের আতঙ্কে নীরবেই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফুলপুর পৌরসভা নির্বাচনে বর্তমানমেয়র মো. শাহজাহান। প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ভোটারবিহীন নির্বাচনে এমপি হওয়া শরীফ আহমেদের কূপানলে পড়তে হয়েছে তাকে। তার চালবাজিতে মনোনয়ন ভাগিয়ে নিয়েছেন উপজেলা যুবলীগ সভাপতি শশধর সেন। আর এখানেও সুবিধা নিচ্ছেন বিএনপির একক প্রার্থী আমিনুল হক।

মুক্তাগাছা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র আব্দুল হাই আকন্দ। তাকে চ্যালেঞ্জ করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দেবাশীষ ঘোষ বাপ্পি। এখানে আওয়ামীলীগের দলীয় কোন্দল প্রকট। বিএনপি’র একক প্রার্থী শহীদুল ইসলাম শহীদ। এখানে জাতীয় পার্টি থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আতাউর রহমান লেলিন। লড়াই হবে ত্রিমুখী।

ফুলবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচনেও লড়াই হবে ত্রিমুখী। এখানে আওয়ামীলীগ থেকে বর্তমান মেয়র মো: গোলাম কিবরিয়া একক প্রার্থী হলেও বিএনপিতে থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ওমর ফারুক মাস্টারকে মানতে না পেরে এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দু’নির্বাচনে পরাজিত হওয়া বিএনপি নেতা চান মাহমুদ। জাতীয় পার্টি থেকে একক প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়েছেন জিয়াউর রহমান খান। ফলে এখানে ভোটযুদ্ধ হবে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাপা’র মধ্যে।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন তিনবারের মেয়র হাবিবুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সাত্তার। এখানে বিএনপি’র একক প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ রফিক উদ্দিন ভূইয়া। এখানে বিএনপিরও একক প্রার্থী এ.এফ.এম.আজিজুল ইসলাম পিকুল । ফলে লড়াই হবে নৌকা আর ধানের শীষের।

ভালুকায় আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান মেয়র ডা: কাইয়ুম। এখানে তার গলার কাঁটা দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ওমর ফারুক মাস্টার। এখানে বিএনপি’র প্রার্থী হাতেম খান। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী মফিজ উদ্দিন সরকার। এখানে লড়াই হবে ত্রিমুখী।

গফরগাঁওয়ে আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন এস.এম.ইকবাল হোসেন সুমন। বিএনপি’র প্রার্থীও একক প্রার্থী ছিলেন শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন। যদিও সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় গত মঙ্গলবার তিন মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্ট।

এমএম