গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে যৌন-হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কোটালীপাড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে ক্লাস বর্জনসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। সেইসঙ্গে বিদ্যালয়ে সন্তান পাঠানো নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। অভিযুক্ত শিক্ষক সুব্রত মধুর অপসারণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-অভিভাবকরা।

জানা যায়, বিদ্যালয়টির বাংলা-শিক্ষক সুব্রত মধু এসএসসির টেস্ট পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে দশম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব দেওয়াসহ নানাভাবে যৌন-হয়রানি করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে ওই দুই ছাত্রী প্রধান শিক্ষকের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ইতিমধ্যে ওই দুই ছাত্রী স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগেও ওই শিক্ষক স্থানীয় দু’মহিলার সঙ্গে অসদাচরণ করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এরমধ্যে এক শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি অভিযোগ প্রত্যাহার করানো হয়েছে।

এ ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক সুব্রত মধুকে অপসারণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে ক্লাস বর্জনসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার সকালেও স্কুল প্রঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তারা। ওই শিক্ষকের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবারও ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, মান-সম্মানের চিন্তা করে বেশিরভাগ অভিভাবকই বিষয়টি চেপে গিয়ে মেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। তারা ওই শিক্ষককে বহিষ্কার না করলে মেয়েদেরকে স্কুলে পাঠাবেন কি না তা নিয়েও আশংকায় রয়েছেন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী জানায়, দশম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার কথা বলে রাত কাটানোর প্রস্তাব দেন শিক্ষক সুব্রত মধু। তারা ওই শিক্ষকের দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে, বিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানায়।

ওদিকে, ওই শিক্ষকের শাস্তি না হলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাবেন কি- না, এ নিয়ে চিন্তা ভাবনায় রয়েছেন বলে জানান অভিভাবকেরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বনোজ কান্তি মধু এ ব্যাপারে জানান,  তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি তাৎক্ষণিক পরিচালনা পর্ষদকে অবহিত করেছেন। ইতিমধ্যে ওই শিক্ষককে কারণ দর্শনোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি লক্ষ্মীকান্ত হালদার লজ্জা প্রকাশ করে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় অভিভাবকদের নিয়েই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। দু’এক দিনের মধ্যেই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি-অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেএ