চট্টগ্রামে ইভ টিজিং প্রতিরোধে বিশেষ এস এম এস হেল্পলাইন চালু করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।

এখন শুধু একটি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে এসএমএস দিয়ে ইভ টিজিং-এর অভিযোগ করলেই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ইভটিজারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। একই নম্বরে ফোন করেও অভিযোগ জানাতে পারবেন ভুক্তভোগীরা।

সিএমপির বিশেষ এই হেল্পলাইন নম্বরটি হচ্ছে ০১৮৪১৩৭৩২৩৭ । এ ছাড়া সিএমপির ৩৭৩ নম্বরেও এসএমএস দেওয়া যাবে।

বুধবার এই এসএমএস হেল্পলাইন চালু করার বিষয়টি জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) বনজ কুমার মজুমদার।

চট্টগ্রামের জামালখান সড়কস্থ ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘নগরীতে ইভটিজারদের ঠেকাতে আমরা বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছি। নির্দিষ্ট নম্বরে খুদে বার্তা ও সরাসরি ফোন করার মাধ্যমে পুলিশকে তথ্য দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সাহায্য নিতে পারবে ভুক্তভোগী ছাত্রী, তরুণী ও কিশোরীগণ।

তিনি বলেন, নিপীড়নের শিকার যেকোনো ছাত্রী মোবাইল থেকে ৩৭৩ নম্বরে একটি এসএমএস পাঠালেই হবে। অথবা ০১৮৪১৩৭৩২৩৭ নম্বরে একটি ফোন করে অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ছাত্রীর নম্বরে নগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একজন ফোন দিয়ে তার অভিযোগ লিপিবদ্ধ করবেন। পরে অভিযুক্ত বখাটের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক অভিযানসহ আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।’

তিনি ছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি তোমাদের সঙ্গে চুক্তি করার জন্য এসেছি। তোমরা যদি তোমাদের অভিযোগ, উত্ত্যক্ত শিকার হবার কথা আমাদের খুলে বলো তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারবো। আমি তোমাদের সঙ্গে তিনটি চুক্তি করতে চাই। চুক্তিগুলো হলো, প্রথমত বখাটেদের উৎপাতের শিকার কোনো ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে সে অভিযোগের কথা নিপীড়নকারীকে কখনোই জানতে দেওয়া হবে না।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে, তোমরা না চাইলে তাহলে তোমাদের স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাকেও বিষয়টি জানানো হবে না।

তৃতীয়টি হচ্ছে, তোমাদের সম্মতি ছাড়া তোমাদের বাবা-মাকেও বিষয়টি জানানো হবে না।’

ছাত্রীরা স্কুলে কিংবা কোচিং সেন্টারে যাওয়া-আসার সময় উত্ত্যক্তের শিকার হন জানিয়ে বনজ কুমার মজুমদার অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘অনেক সময় তারা শিক্ষক-শিক্ষিকা, এমনকি নিজের বাবা-মাকে পর্যন্ত মন খুলে সেই কথা বলতে পারে না। নীরবে কষ্ট সহ্য করে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমরা তাদের সেই কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে চাই।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা আমার মেয়ের মতো। আমি তোমাদের অভিভাবক। যে কোনো যন্ত্রণা কষ্ট তোমরা আমার সঙ্গে শেয়ার করতে পারো। আমি কথা দিচ্ছি তোমরা না চাইলে অভিযোগের বিষয়টি পুলিশ কারো সঙ্গে শেয়ার করবে না।’

এমকে