ঢাকাগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন। ট্রেনের ভিতরে-ছাদে ঠাঁই নেই যেন তিল ধারণের। ঘর ছেড়ে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ফেরা চাপে গিজগিজ করছে ষ্টেশন। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি শেষে জীবনের ঝুঁকি জেনেও তারা উঠে বসছেন ট্রেনের ছাদে।
জীবিকার তাগাদায় ঢাকায় ছুটে চলা এসব মানুষের অবশ্য মনটি পড়ে রয়েছে তাদের সেই গ্রামে। এনিয়ে অনেকের ভেতর জমাট বাঁধা কষ্ট। তবুও জীবিকার তাগিদে ফিরতে যে হবেই।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশনে গেলে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে। ময়মনসিংহের ঈশ্বগঞ্জে সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ঈদ করতে গিয়েছিলেন মো: আনোয়ার হোসেন (৪০)। সবাইকে নিয়ে ঈদ উৎসবে কেটেছে ৩ দিন।
ঢাকার একটি কোম্পানীতে চাকরি করেন তিনি। স্টেশনে যাত্রী ছাউনির নিচে দাঁড়িয়ে ছিলেন ট্রেনের অপেক্ষায়। ট্রেন আসার সঙ্গে সঙ্গে ঠেলাঠেলি করে উঠে গেলেন তিনি। যাওয়ার আগে তিনি বলেন, সবাই একসাথে আড্ডা ঘুরাফেরায় ঈদের কয়েকটা দিন খুব ভালই কেটেছে। এখন বাবা-মা কে রেখে যেতে খারাপও লাগছে। তবুও কর্মের টানে যেতেই হবে। কর্মব্যস্ত হয়ে পড়লে এ কষ্ট কেটে যাবে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঈদের পরদিন থেকেই ঢাকাগামী মানুষের চাপ বেড়েছে। মঙ্গলবারও এ চাপ অব্যহত ছিলো। সড়ক পথের চেয়ে গন্তব্যে ফিরতে ট্রেন নিরাপদ ও আরামদায়ক হওয়ায় ট্রেনে এত ভীড় বলেন স্টেশনের এক কর্মকর্তা।
এদিকে ট্রেনের ছাদে উঠা ঝুকি ও আইন সিদ্ধ না হলেও ময়মনসিংহ হলেও ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, অগ্নিবীনা, কমিউটারসহ বিভিন্ন ট্রেনের প্রতিটিতেই জীবনের ঝুকি নিয়েই গন্তব্যে ফিরতে দেখা গেছে সকলকে।
ছাদে উঠা বিষয়ে জামালপুর থেকে আসা সুজন (২৫) বলেন, ট্রেনে সিট নাই কি করমু ভিতরে চিপাচিপিতে কোন রকমে ঢুকলেও খাড়ইয়া থাহাও কষ্ট অইয়া যাবো, হে লেইগ্যাই ছাদে উইঠ্যা রইছি। যাইতে ত হইবো।
ছাদে উঠা ও নিরাপত্তার বিষয়ে নিরাপত্তাকর্মী খালিদ হাসান বলেন সবাইকে কর্ম ক্ষেত্রে যেতেই হবে তাছাড়া ঈদে বাড়তি কোন ট্রেন রাখা হয়নি তাই আপাতত কিছু বলা হচ্ছে না।
অপরদিকে ঈদকে ঘিরে অগ্রিম টিকিট কিনতে গেলে বাড়তি টাকা নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামালপুরের ইসলামপুর থেকে আসা মো: জাহিদ।
তিনি বলেন, অনেক ভিড়ের মাঝে কষ্ট করে টিকিট পেতে হয়েছে তাও আবার ১৭৫ টাকার টিকিট ৫০০ টাকায়, এরা কী পাইছে। এ সময় ক্ষোভ ঝাড়েন তিনি।
এএইচ/ইআর





