আইনের ১০টি পদ্ধতি থাকলে ফাঁকি দেয়ার হাজারটা পদ্ধতি রয়েছে। অনেক সময় আমাদের উপদেষ্টারা অর্থাৎ আইনজীবীরাই আমাদের ফাঁকি দেয়ার রাস্তা দেখিয়ে দেন বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান।
তিনি বলেন, আমাদের ওপর মোটা অংকের করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয় তখন আমরাও তাদেরকে ফাঁকির রাস্তা দেখিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করি। কিন্তু সেটা সঠিক নয়। আমরা যাকাত সরকারিভাবে দেইনা। সুতরাং ট্যাক্সের ওপর আমাদের দেশ নির্ভরশীল। তাই অন্তত কর ফাঁকি দেওয়া আমাদের উচিত নয়।
মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডের কনভেনশন সেন্টারে নারায়ণগঞ্জ কর অঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত চার দিনব্যাপী আয়কর মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিম ওসমান এসব কথা বলেন।
বক্তব্য শেষে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে জেলার ১০ জন শ্রেষ্ঠ করদাতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
এসময় সেলিম ওসমান বলেন, যে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে তারা ট্যাক্স দিয়ে দেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করতে পারবে এটাই আমি বিশ্বাস করি।
তিনি বলেন, বাড়ি ভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে যে আইন রয়েছে সে বিষয়ে আমি নিজেই কিছু জানিনা। কারণ আমি এ বিষয়ে কোনো নোটিশ পাইনি। সেক্ষেত্রে অনেকেই হয়তো জানেন না। কর আদায়ের ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। চাপ প্রয়োগে কিংবা কঠোরতার সঙ্গে নয় আলোচনার মাধ্যমে বুঝিয়ে ব্যবসায়ীদের থেকে কর আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীক সংগঠনগুলোও সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার যে সব ক্ষেত্রে ট্যাক্স আদায় কম হচ্ছে সে সব ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে কাজ করছেন। সবাই মিলে সোনার বাংলা গড়তে হলে আমাদের কর ফাঁকির প্রবণতা কমাতে হবে।
নাসিকের এলাকায় দীর্ঘ সময় করদাতা হিসেবে সৈয়দ মো. খোরশেদ আলম ও দেলোয়ার হোসেন এবং ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরের সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে মো. আসাদুল ইসলাম, হাসান আহমেদ, মো. আব্দুল লতিফ।
এছাড়া নাসিকের বাহিরে জেলার আওতাধীন দীর্ঘ সময় ধরে করদাতা হিসেবে মজিবুর রহমান ভূইয়া ও মশিউর রহমান এবং ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরের সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে মিজানুর রহমান মোল্লা, মাওলানা মো. সালেম ও এ কে এম আবু সুফিয়ানকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
মেলা উপলক্ষে বসা স্টলে তথ্যকেন্দ্র, ই-টিআইএন, রিটার্ণ গ্রহণ, হেল্প ডেস্ক, অধিক্ষেত্রসহ সোনালী ও জনতা ব্যাংকের দু’টি বুথ থেকে বিভিন্ন সুবিধাদি দেয়া হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ কর অঞ্চলের কর কমিশনার সনজিদা খাতুনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা, বিকেএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা, জেলা ট্যাক্সেস বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট রতন কান্তি ধর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সোহেল সারোয়ার, যুগ্ম কর কমিশনার সাধন কুমার রায় প্রমুখ।
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





