রাঙামাটি ও বান্দরবানে অতি বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে শিশুসহ অন্তত ১৪জন নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ১০ জন। নিখোঁজ রয়েছে ২জন। মঙ্গলবার রাতে দুই জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। 

টানা বর্ষণে রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে কমপক্ষে আটজনের প্রাণহানি হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাঙামাটি শহর এবং আশেপাশের এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। রাঙামাটি সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিহতরা হলেন, রুমা আক্তার, নুরি আক্তার, জোহরা বেগম, সোনালি চাকমা, অমিত চাকমা, আয়ুস মল্লিক, লিটন মল্লিক, চুমকি দাস। এদের মধ্যে মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন।

সোমবার থেকে রাঙামাটিতে টানা বর্ষণ শুরু হয়। এতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ে। ধসে পড়া মাটির নিচে এখনও অনেকে চাপা পড়ে আছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কাজ চালাতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। 

অপরদিকে বান্দরবানে প্রবল বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসে পৃথক ঘটনায় মা-মেয়েসহ অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে শহরের কালাঘাটা ও লেমু ঝিড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, শহরের লেমু ঝিড়ি জেলেপাড়া এলাকার আবদুল আজিজের স্ত্রী কামরুন্নাহার বেগম (৪০), তার মেয়ে সুখিয়া বেগম (৮), কালাঘাটা এলাকার রেবা ত্রিপুরা (২২), লেমু ঝিড়ি আগাপাড়া এলাকার তিন শিশু- শুভ বড়ুয়া (৮), মিতু বড়ুয়া (৬) ও লতা বড়ুয়া (৫)।খবর পেয়ে স্থানীয়দের নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানায়, টানা বর্ষণের ফলে রাত সাড়ে তিনটার দিকে শহরের লেমু ঝিড়ি জেলেপাড়া এলাকায় পাহাড়ের মাটি ধসে ঘরের ওপর পড়লে মা কামরুন্নাহার বেগম ও মেয়ে সুখিয়া বেগম মারা যায়। এ সময় কামরুন্নাহারের স্বামী আবদুল আজিজও গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রায় একই সময়ে লেমু ঝিড়ি আগাপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে লাল মোহন বড়ুয়া নামে এক ব্যক্তির ঘরের ওপর পড়লে তার তিন শিশু সন্তান- মিতু, শুভ ও লতার মৃত্যু হয়। এ ছাড়া রাতে প্রবল বর্ষণের সময় শহরের কালাঘাটা এলাকার কবরস্থানের পাশে ঘরের ওপর মাটি চাপা পড়লে রেবা ত্রিপুরা নামে বান্দরবান সরকারি কলেজের ছাত্র নিহত হন।

এ সময় আরো চার কলেজ ছাত্র আহত হন। এরা হলেন, বীর বাহাদুর ত্রিপুরা, সূর্য চাকমা ও প্রশেন ত্রিপুরা। পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গেছে, আহতরা সবাই ওই এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। নিহত রেবা ত্রিপুরা রাতে তাদের কাছে বেড়াতে এসেছিলেন। 

এমএনজে