বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসানআপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সার্চ কমিটির বাকি পাঁচজন সদস্য হলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মাসুদ আহমেদ, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য শিরীণ আখতার।

আজ সকালে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দেন রাষ্ট্রপতি। নিয়ম অনুযায়ী সার্চ কমিটির সদস্যদের দেওয়া নামগুলো থেকে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন।

মাসুদ আহমেদ ও মোহাম্মদ সাদিক২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান নির্বাচন কমিশন গঠন করতে চার সদস্যবিশিষ্ট সার্চ কমিটি করেছিলেন। ওই কমিটিরও প্রধান ছিলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। বাকি তিন সদস্য হিসেবে ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান, পদাধিকার বলে তৎকালীন মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) আহমেদ আতাউল হাকিম এবং সরকারি কর্মকমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান এ টি আহমেদুল হক চৌধুরী।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দুটি সূত্র জানিয়েছে, সার্চ কমিটি গঠন করতে জিল্লুর রহমানের ওই ফর্মুলা বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদও অনুসরণ করেছেন। তবে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং নারী প্রতিনিধি হিসেবে শিরীণ আখতারকে অন্তর্ভুক্ত করে এর আকার বাড়িয়েছেন।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও শিরীণ আখতারসার্চ কমিটিতে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে শিরীণ আখতার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই দায়িত্বকে সুন্দর এবং পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করছি। আশা করি, সুষ্ঠুভাবে এ দায়িত্ব পালন করতে পারব।’

১৯৯৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই শিরীণ আখতার আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দলের সঙ্গে রয়েছেন। ২০১৪ সালে হলুদ দলের প্যানেল থেকে শিক্ষক সমিতির কার্যকরী সদস্য হয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া জীবনবৃত্তান্ত থেকে জানা যায়, শিরীণ আখতারের বাবা মৃত আফসার কামাল চৌধুরী কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

নতুন কমিশন গঠন নিয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ মোট ৩১টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে সার্চ কমিটি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। সময়ের অভাবে এবার নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন বা অধ্যাদেশ জারি করছেন না রাষ্ট্রপতি।

একজন কমিশনার বাদে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি।

এমই