মুহুর্তে ভরে যাচ্ছে সবটুকু জায়গা। সিট, ডেক থেকে শুরু করে ছাদ। লঞ্চের কোথাও বসার জায়গা নেই। মানুষের কোলাহল, লঞ্চের ভেঁপু, কন্ট্রোল রুম থেকে মাইকে সতর্কীকরণ নানা ঘোষণায় সদরঘাট লঞ্চ ঘাটে বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। নানা ভোগান্তি থাকলেও, যাত্রীদের চোখেমুখে বাড়িফেরার আনন্দ।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মোড় থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।
ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য জানান, মানুষের সঙ্গে যানের চাপে মূল সড়কটি যেন অচল না হয়ে পড়ে তার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুরের এক যাত্রী বলেন, এই কাজটা খুব ভালো হয়েছে। বাহাদুর শাহ পার্ক ঘুরে রিকশা, সিএনজিচালিত যানবাহন ও বাসগুলো ঠিকমতে ফিরতি যাত্রার প্রস্তুতি নিতে পারছে। অন্য বছর এগুলো ঘাটের কাছে গিয়ে এমন অবস্থা হতো যে, না পারতো মানুষ চলাচল করতে, না হতো যান চলাচল।
জগন্নাথের মোড় থেকে শুরু হওয়া মানুষর ঢল যোগ হয়েছে ঘাটে অপেক্ষারত প্রায় পঞ্চাশের অধিক লঞ্চের ভেতর পর্যন্ত। কেউ কেউ অপেক্ষা করেছেন টার্মিনালের বিভিন্ন ডকে বসে।
লঞ্চঘাটে স্থাপিত কন্ট্রোলরুম থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত ২৫টি লঞ্চ সদরঘাট ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে বরিশালের উদ্দেশ্যে ৫টি, পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে ৪টি, আমতলীতে ৩টি, ভোলায় ৫টি এবং চাদঁপুরের উদ্দেশ্যে ৮টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে।
প্রিন্স অব বরিশাল-২ লঞ্চের কর্মী ইউনূস আলী বলেন,গতকালের চেয়ে আজকে (বৃহস্পতিবার) মানুষের ভিড় বেশি। সকালবেলা আরো বেশি ছিল। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ভিড় আরো বাড়বে।
সদরঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিন বলেন, মানুষের চাপ আছে। সঙ্গে আমাদের ভালো ব্যবস্থাপনাও আছে। তাই সামান্য ভোগান্তি হলেও মানুষ খুশি মনে বাড়ি ফিরছে।
কেএইচ





