ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭ জনে।
আজ রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন চাঁনখারপুলে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যু হয় তিনজনের। নিহত তিনজন হলেন আবদুর রাজ্জাক, মোত্তাকিম ও আবু সাঈদ।
ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃত মোস্তাকিম রাজশাহীর তানোর মৃত মোন্তাজের ছেলে ও রাজ্জাক কেরানীগঞ্জের হিজতলা চুনকুঠিয়া এলাকার মৃত আবদুর রশিদের ছেলে। তবে আবু সাইদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আসাদ নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ১৪ বছর বয়সী আসাদের শরীরের ৫০ শতাংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থেকে ওই তিন যুবকের মৃত্যু হয়।
গত ১১ ডিসেম্বর বিকালে কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকায় প্রাইম প্লেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ নিয়ে ১৭ জন নিহত হয়েছেন।
ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বরত পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের একটি তালিকা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে আছেন ইমরান, রায়হান, বাবলু, সুজন, খালেক, জিয়ারুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর, আলম, ফয়সাল, মেহেদি, ওমর ফারুক ও সালাউদ্দিন। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে যে ব্যক্তি নিহত হয়েছেন তাঁর নাম মাহাবুব। সেই সঙ্গে আজ সকালে মারা গেলেন আবদুর রাজ্জাক, মোত্তাকিম ও আবু সাঈদ। তাঁরা সবাই চুনকুটিয়া এলাকায় থাকেন এবং ওই কারখানাতেই কাজ করতেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর কারখানার মালিক নজরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহত মো. আলমের ভাই মো. জাহাঙ্গীর।
সামন্ত লাল জানান, কেরানীগঞ্জে দগ্ধ আরও ১৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ৯ জনকে রাখা হয়েছে লাইফসাপোর্টে। তবে ১৪ জনের কেউ শঙ্কামুক্ত নন।
এমএম





