চলতি মৌসুমে যশোরে সবচেয়ে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে আজ রবিবার। এদিন ভোর ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় ৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে শহরের দক্ষিণাংশ শঙ্করপুর, বেজপাড়া ও পশ্চিমাংশ খড়কি-কারবালা এলাকা।
বিমানবাহিনীর মতিউর ঘাঁটির আবহাওয়া দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, ভোর ছয়টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত যশোরে মোট ৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়; যা চলতি বর্ষা মৌসুমে যশোরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
এর আগে শনিবার ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয় যশোরে। গত ২৪ থেকে ২৬ জুন যশোরে বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে যথাক্রমে ৫৭ মিলিমিটার, ৪১ মিলিমিটার এবং ৪৯ মিলিমিটার।
সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হাঁটুসমান পানির নীচে শংকরপুর, চোপদারপাড়া, কারবালা, কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল, খড়কিসহ বিভিন্ন এলাকায়। প্রবল বৃষ্টির কারণে দুপুর পর্যন্ত শহরের জীবনযাত্রা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হয়নি। কোনো কোনো এলাকায় নর্দমা উপচে পানি উঠে যায় রাস্তার উপর। সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।
নাগরিকদের এই অসুবিধা নিরসনে যশোর পৌরকর্তৃপক্ষের নেই তেমন কোনো উদ্যোগ; সেকারণে বছরের পর একই ভোগান্তির মাঝে পড়তে হচ্ছে সকলকে- বলছেন ভুক্তভোগীরা।
পানি জমে যাওয়ায় সবচে’ বেশি দুর্দশায় পড়েছেন শহরের শঙ্করপুর এলাকার বাসিন্দারা। এ এলাকার প্রায় প্রতি বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে।
শঙ্করপুর এলাকার বাসিন্দা হারুন অর রশিদের বাড়িতে হাঁটুপানি। তিনি বলেন, ‘নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করায় বৃষ্টির পানি অপসারিত হয়নি। সে কারণে আমাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
একই এলাকার রুবিনা খাতুন বলেন, ‘রান্নাঘরের চুলার মধ্যেও পানি ঢুকে গেছে। ফলে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। পানি না সরা পর্যন্ত হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হবে।’
শঙ্করপুর এলাকার গৃহবধূ ফাতেমা বেগম বলেন, ‘বাড়ির উঠান থেকে শুরু করে সব জায়গায় পানি। বাচ্চাকাচ্চা বাড়ি থেকে বেরুতে পারছে না। বড় সমস্যায় আছি। কখন দুর্ঘটনা ঘটে যায় বলা যায় না।’
অপরিকল্পিত ড্রেনেজ সিস্টেমের ফলে পানি নিষ্কাষণের সমস্যা, ভৈরব ও মুক্তেশ্বরী নদী বেদখল ও সংস্কার না হওয়া জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ বলে দাবি করছেন নাগরিক আন্দোলনের নেতারা।
ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ‘পৌরকর্তৃপক্ষ প্রকল্প এলেই তা নিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। নাগরিকদের সুবিধার দেখার চেয়ে নিজেরা লাভবান হবেন কিনা সেটি হয় তাদের বিবেচনা।’
তিনি বলেন, ‘এডিবির অর্থায়নে যেসব ড্রেন তৈরি হয়েছে যশোর শহরে-তা যে কোনো কাজেই আসছে না তা প্রমাণিত। কেননা সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে।’
পৌরকর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা, অদূরদর্শিতা আর নিজেদের পকেট মোটা করার মানসিকতার কারণে ড্রেনেজের এই অবস্থা বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
আগে শহরের সব পানি ভৈরব ও মুক্তেশ্বরী নদীতে নিষ্কাশিত হতো। কিন্তু এখন পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ভৈরব, মুক্তেশ্বরীসহ বিভিন্ন নদীতে বাঁধ দিয়ে সেগুলো ধ্বংস করছে বলে অভিযোগ করেন ওয়ার্কার্স পার্টির এই নেতা।
এ ব্যাপারে যশোর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র জাহাঙ্গীর আহমেদ শাকিল বলেন, ‘সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখেছি। জলাবদ্ধ অবস্থা বেশিদিন থাকবে না। কেননা শহরের বিভিন্ন এলাকায় আরও উন্নত ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর এমন জলাবদ্ধ পরিস্থিতির শিকার হবেন না নাগরিকরা।
জেআই





