বিশ্বজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। সিঙ্গাপুরে এই ভাইরাসে বাংলাদেশি আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

দেশটিতে নতুন করে ৩৩৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭১ জনই বাংলাদেশি।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ১৭১ জনসহ এখন পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে মোট ১০৪৯ জন বাংলাদেশি প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সিঙ্গাপুরে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩২৫২ জন৷ আজ আরও ২৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন৷ এই নিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৬১১ জন।

মঙ্গলবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৭০ বছর বয়স্ক একজন সিঙ্গাপুরীয়ান নাগরিকের মৃত্যু হয়। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সিঙ্গাপুরে দশজনের মৃত্যু হয়েছে৷

সিঙ্গাপুরে সবচেয়ে বড় ক্লাস্টার হিসেবে পংগল S11 ডরমিটরিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ডরমিটরি থেকে আজকে আরও ১৩২ জন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত করা হয়। এখন পর্যন্ত পংগল S11 ডরমিটরি থেকেই ৭১৮ জন অভিবাসী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন৷

আক্রান্ত ৩৩৪ জন সবাই স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হয়েছে৷ আজকে ২২০ জন পূর্বের ক্লাস্টার কিংবা রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগই অভিবাসীদের থাকার জায়গা ডরমিটরির সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। ১১৪ জনের তথ্য এখনো অজানা।

১৩১৫ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন৷ এরমধ্যে ২৮ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদেরকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে৷ ১৩১৬ জনের অবস্থা ক্লিনিক্যালি ভালো কিন্তু পরীক্ষায় করোনাভাইরাস পজিটিভ হওয়ায় তাদেরকে অন্য রোগীদের কাছ থেকে আলাদা রাখা ও যত্নের জন্য কনকর্ড ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল, মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল, গ্লেনেগল হাসপাতাল এবং দ্য কমিউনিটি আইসোলেশন ফ্যাকাল্টি অ্যাট ডিজোর্টে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে আরও ২০৯ জন শনাক্ত হয়েছেন। ফলে দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৭ জনের। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

এমবি