নানা অনিয়ম ও প্রতারণার দায়ে ৮টি হজ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। এছাড়া ২০৮টি কোম্পানির লাইসেন্স বিভিন্ন মেয়াদে স্থগিত ও জরিমানা করা হয়েছে। সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে যথাসময়ে তথ্য না দেয়া, অনিয়ম, প্রতারণা, হজযাত্রীদের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন না করানোসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে এগুলোর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান।
তিনি জানান, ২০১৩ সালে ৬২৮টি হজ এজেন্সি কার্যক্রমে অংশ নেয়। এর মধ্যে অভিযুক্ত হয়েছে মোট ২১৭টি কোম্পানি। তদন্ত সাপেক্ষে পরে অব্যাহতি পেয়েছে ৯টি, লাইসেন্স বাতিল হয়েছে ৮টির, ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে ৫টি কোম্পানির, ৪ লাখ করে ৫টির, ৩ লাখ করে ১৭টির, আড়াই লাখ টাকা করে ৯টির এবং দেড় লাখ করে ১২১টি কোম্পানির জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া জরিমানাসহ বিভিন্ন মেয়াদে হ্জ লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে ৫টি কোম্পানির। জরিমানাসহ সৌদি সরকারের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে ২০টির এবং জরিমানা ছাড়াই সৌদি সরকারের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে ১৮টি এজেন্সির।
[b]জরিমানা ও জামানত বাজেয়াপ্তসহ লাইসেন্স বাতিল হওয়া এজেন্সিগুলো হলো[/b]- জানুস ট্রাভেলস অ্যান্ড টুর, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস,  ক্যাশকার্ড ট্রাভেলস অ্যান্ড টুর, এম এস সালাম ট্রেডিং ইন্টান্যাশনাল, জিয়ারত ই কাবা টুর অ্যান্ড ট্রাভেলস লিমিটেড, আল-জিয়া এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, মুনিরা ট্রাভেলস অ্যান্ড টুর, হুমাইরা হজ্জ্ব ট্রাভেলস লিমিটেড।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত ৯ কোম্পানি হলো: সুলতানা ট্রাভেলস অ্যান্ড টুর, হান্না ট্রাভেলস অ্যান্ড টুর, কেরানীগঞ্জ ট্রাভেলস সার্ভিস, তাওয়াফ স্কাই টুর, কেবি এয়ার ইন্টন্যাশনাল, এম/এস মাসউদ ট্রাবেলস, নিউ মাদারীপুর ট্রাভেলস অ্যান্ড টুর ও নিউ এয়ার বাংলাদেশ, রফিক ট্রাভেলস, সন্দ্বীপ ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল।  
[b]সৌদি সরকারের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত হজ্জ লাইসেন্স স্থগিত হওয়া ১৮ কোম্পানি হলো:[/b] রিয়্যাল ইন্টারন্যাশনা, আল-হাজী ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, পিপলস ট্রাভেল এজেন্সী, গাউছে পাক (রঃ) ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, এয়ার কনফিডেন্স ইন্টারন্যাশনাল টুর অ্যান্ড ট্রাভেলস, আমাতুল এয়ার ট্রভেলস সার্ভিস, আল-কিবাল হজ্জ্ব টুর অ্যান্ড ট্রাভেলস, কেয়ারেভল এয়ার ইন্টারন্যশনাল, এইচএম টুর অ্যান্ড ট্রভেলস, হাতিম টুর অ্যান্ড ট্রাভেলস এম/এস গ্রেন্ড সিগদার এয়ার ট্রাভেলস, মদিনা স্টার টুর অ্যান্ড ট্রাবেলস, মাহির হজ্জ্ব সার্ভিস অ্যান্ড টুর, মুবাসসিরা ট্রাভেলস অ্যান্ড টুর, মুন্সিগঞ্জ ট্রাভেলস অ্যান্ড টুর, নেগবর ওভারসীজ লিমিটেড, সাউথ এশিয়া ট্রাভেলস অ্যান্ড টুর, বেস্ট ফাই ইন্টারন্যাশনাল।  
[b]জরিমানাসহ সৌদি সরকারের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত হজ্জ লাইসেন্স স্থগিত হওয়া ২০ কোম্পনি হলো:[/b] চিটাগাং এয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিঃ,   সিনসিয়ার ট্রেড অ্যান্ড ট্যুরিজম, গাউছিয়া ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, আনজুম ওভারসীজ,  আল হাবিব হজ্জ্ব গ্রুপ, বুশরা এয়ার সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড, মাবরুরান হজ্জ্ব এজেন্সি, উল্ল্যাস টুর অ্যান্ড ট্রভেলস, ফাহমিদ ট্রাভেলস অ্যান্ড টুর ও ইরানা এয়ার ইন্টান্যাশনাল। শামীমা ট্রাভেলস, মক্কা বাবে জান্নাত ট্রাভেলস অ্যান্ড টুর, নামিরা ট্রাভেলস, এম/এস পিজা এয়ার ট্রাভেলস অ্যান্ড টুর, আহছানিয়া-মালয়েশিয়া হজ্জ মিশন, ফাস্ট ওয়ান ইন্টান্যাশনাল, নাঈম ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস অ্যান্ড টুর, ইমাম ট্রাভেলস, রয়েল এয়ার সার্ভিস এবং এয়ার কানেকশান ট্রাভেলস অ্যান্ড টুর।
[b]জরিমানা এবং বিভিন্ন মেয়াদে হজ লাইসেন্স স্থগিত ৫ এজেন্সি হলো:[/b] সাদেক ট্রাভেলস (৩ বছরের জন্য স্থগিত), ব্রাইট ট্রাভেলস (৩ বছরের জন্য স্থগিত), আল-জুবাইদী ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল (২ বছরের জন্য স্থগিত) ৫ লাখ টাকা করে জরিমান করা হয়েছে। এছাড়া এস আহমেদ টুর অ্যান্ড ট্রাভেলসকে ৩ লাখ এবং সাজিদ হজ্জ্ব ট্রাভেলস অ্যান্ড টুরকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তাদের হজ্জ লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।  
[b]জরিমান করা হয়েছে:[/b] ১২১টি কোম্পানিকে দেড় লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমান। আড়াই লাখ করে ৯ এজেন্সির মোট ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিন লাখ করে ১৭ এজেন্সির মোট ৫১ লাখ টাকা, ৫টি এজেন্সিকে ৪ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা এবং ৫ এজেন্সিকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
[b]ঢাকা, ২৪ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]