পশু কোরবানির পর বর্জ্য পরিষ্কার করার জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ১৩ হাজার পরিচ্ছন্ন কর্মী মাঠে নেমেছেন।
দুপুর ২টা থেকে তারা পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেছেন। দ্রুত বর্জ্য অপসারণের জন্য এবারই প্রথম বিশেষ পলিব্যাগ সরবরাহ করার কথা থাকলেও তা বাস্তবে দেখা মিলছে না।
সিটি কর্পোরেশনের ময়লাবাহী অতিরিক্ত গাড়ি, সেনা-নৌ ও দমকল বাহিনীর এবং ঢাকা ওয়াসার পানির গাড়ি, বিশেষ পলিব্যাগ ও জীবাণুনাশক দিয়ে পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বেশ কয়েকটি বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানের যানবাহনও ব্যবহার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
দুই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ঢাকায় কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কার করা হবে। ময়লা এবং বর্জ্য পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করবে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। এজন্য চুক্তিভিত্তিক পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োগও দেওয়া হয়েছে।
দ্রুত ময়লা অপসারণে এবং যেখানে সেখানে বর্জ্য না ফেলতে এবারই প্রথম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিশেষ পলিব্যাগ সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে রাজধানীর ধানমন্ডি, ঝিগাতলা, ১৫ নম্বর, ২৭ নম্বর, কলাবাগান, যাত্রাবাড়ী, ওয়ারি, পল্টন, সায়দাবাদ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এসব এলাকায় কোনো পলিব্যাগ সরবরাহ করা হয়নি।
দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন তাৎক্ষণিকভাবে বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য প্রায় ২৫ হাজার বিশেষ পলিব্যাগ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের কোরবানির পশুর হাট, বড় আয়তনের আবাসিক কোয়ার্টার এবং অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে এসব পলিব্যাগ বিতরণ করার ঘোষণা দেওয়া হলেও কোথাও বিশেষ এই পলিব্যাগের দেখা মেলেনি।
এলাকাবাসী আগের নিয়মেই নিজেদের মত করে কোরবানির বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলছে। ঢাকায় এবার প্রায় ৪৪ হাজার টন বর্জ্য হতে পারে বলে মনে করছে সিটি কর্পোরেশন দুটি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন জানায়, এবার ৫ হাজার ৮৮৪ পরিচ্ছন্ন কর্মী কোরবানির বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে দক্ষিণ ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে নিয়োজিত থাকবে। ময়লা-আবর্জনা ও কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ১২৬ টি খোলা ট্রাক, ৭৩টি কনটেইনার এবং পরিবেশ-বান্ধব ১৬টি কমপ্যাক্টর গাড়ি ব্যবহার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
অপরদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন জানায়, এবছর কোরবানির বর্জ্য অপসারণে তাদের নিজস্ব দুই হাজার ৭০০ পরিচ্ছন্ন কর্মীর পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কর্মীকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। মোট ৭ হাজারের বেশি কর্মী উত্তর ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে নিয়োজিত থাকবে।
এ বছরও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মহানগরীর রাস্তাঘাট ও ড্রেন জীবাণুমুক্ত রাখতে ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক তরল ওষুধ ব্যবহার করবে। সূত্র:শীর্ষ নিউজ
কেএ





