ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) নষ্ট একটি কন্ট্রোল ইউনিটের ত্রুটি চিহ্নিত করতে অনুরোধ জানালেও সেটি সেভাবেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) সেটি ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।
একই সঙ্গে ইসির বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনেরও অভিযোগ এনেছে বুয়েটের ব্যুরো অব রিচার্স, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন (বিআরটিসি)।
বুধবার বিআরটিসি পরিচালক স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবালয়ের মেনটেইন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারের কাছে পাঠানো হয়।
২০১০ সালে এ টি এম শামসুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসি বুয়েটের সহায়তায় ইভিএম চালু করে। ওই সময় চীন থেকে আমদানি করা ব্যাটারি ব্যবহার করা হত।
পরে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন ইসি ২০১২ সালে দেশীয় ব্যাটারি ব্যবহার শুরু করে। তা নিয়ে ইসি-বুয়েট দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ২০১৩ সালে দেশীয় ব্যাটারি দিয়ে ইভিএম চালাতে গিয়ে রাজশাহীতে সমস্যায় পড়ে ইসি।
এর ধারাবাহিকতায় বুয়েটের বিআরটিসিকে তা সমাধান দিতে বলে ইসি।
এর জবাবে বুধবার বুয়েটের ব্যুরো অব রিচার্স, টেস্টিং এ্যান্ড কনসালটেশন পরিচালক ইসিকে পাঠানো চিঠিতে বলেন, বুয়েটের পরামর্শ বা উপদেশ উপেক্ষা করে বা আমলে না নিয়ে নির্বাচন কমিশন গত বছরের ১৫ জুন রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজস্ব বিবেচনায় ইভিএম-এর পাওয়ার সাপ্লাইয়ের জন্য দেশিয়/লোকাল ব্যাটারি ব্যবহার করে নির্বাচন সম্পন্ন করে।
“যা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন,” বলা হয় ওই চিঠিতে।
পরিচালক জানান, যেহেতু বুয়েট ইভিএমের ডিজাইন ও মেধাস্বত্বের একমাত্র অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও এর পাওয়ার সাপ্লাইয়ের জন্য বুয়েটের কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়নি। সেহেতু রাজশাহী সিটি নির্বাচনে ব্যবহৃত একটি কন্ট্রোল ইউনিট ‘সঠিকভাবে কাজ না করার কারণ চিহ্নিত করার বিষয়টি’ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বাইরে যাওয়ার কারণে এ বিষয়ে বুয়েটের মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
“আপনাদের পাঠানো ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিটটি আপনারা যেভাবে বুয়েটে পাঠিয়েছিলেন, হুবহু একই অবস্থায় ফেরত পাঠানো হল।”
ইভিএম পরিচালনায় পাওয়ার সাপ্লাইয়ের জন্য ব্যবহৃত ব্যাটারির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। যা বুয়েট ইসিকে বেশ কয়েকবার মৌখিকভাবে ও চিঠিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে স্থানীয় ব্যাটারি ব্যবহার করলে ইভিএমগুলোতে ‘আনপ্রেডিকটেবল ফল্ট’ দেখা দিতে পারে। ফলে নির্বাচনের ফলাফল সঠিকভাবে প্রতিফলিত নাও হতে পারে।
এক্ষেত্রে বুয়েট ইভিএমর সঠিক কার্যকারিতার বিষয়ে কোনো প্রকার দায়-দায়িত্ব বহন করবে না বলে ইসিকে জানায় বুয়েট।
বুয়েটের জবাব নিয়ে এখনও কমিশন সভায় কোনো আলোচনা না হওয়ায় কোনো মন্তব্য করতে চাননি একাধিক নির্বাচন কমিশনার।
জেডআই





