কারা কর্তৃপক্ষ আসামিদের সবাইকে হাজির করতে না পারায় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মকবুল আহসান শুনানির জন্য আগামী ৩ অগাস্ট নতুন তারিখ ঠিক করে দেন। ওই দিন আসামিদের সবাইকে আদালতে হাজির করারও নির্দেশ দেন তিনি।
এর আগে গত ৬ ও ১৪ জুলাই অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও ৩২ আসামির সবাই উপস্থিত না থাকায় তা পিছিয়ে যায়।
এ আদালতের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনের বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে বৃহস্পতিবার ‘অসুস্থতার’ কারণে হাজির করা যায়নি বলে আদালতকে জানানো হয়েছে।
মামলার ৩২ আসামির মধ্যে ৮ জন জামিনে এবং ১৪ জন কারাগারে রয়েছেন। বাকিরা পলাতক।
কারাগার ও জামিনে থাকা ২২ জনের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ২১ জন এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে ঈদ পরবর্তী এক জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলায় আহত হন শাহ এ এম এস কিবরিয়া। ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ওই হামলায় আরও নিহত হন কিবরিয়ার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী। আহত হন শতাধিক নেতাকর্মী।
হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান ওই রাতেই হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন।
তিন দফা তদন্তের পর এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর আরিফুল, হবিগঞ্জের বিএনপি নেতা ও বরখাস্ত পৌরমেয়র জি কে গউছ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনের নাম যোগ করে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন।
এরপর আরিফুল ও গউছ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে বিচারক তা নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠান। সরকার তাদের মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গত ৩ জুন হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ থেকে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
এএইচ





