নৌকাস্কুল ভাটি এলাকায় পাঠদানে আশার আলো। নৌকার ভেতরে স্কুল তৈরি করে তাতেই চলছে লেখাপড়া। পানিতে নিমজ্জিত হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকার শিশুদের শিক্ষার এই সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে ব্র্যাক। আর স্কুলের নাম দিয়েছে ‘শিক্ষাতরী’। ভাসমান এই ‘শিক্ষাতরী’ জলমগ্ন হাওরের ঘাটে ঘাটে নোঙর ফেলছে।

হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকার মানুষকে বছরের ৬ মাসই নৌকায় চলতে হয়। এই ৬ মাসই যখন ভাটির জনপদ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না। এসব বঞ্চিত আর অবহেলিত শিশুদের শিক্ষার আশার আলো ছড়াচ্ছে ব্র্যাকের এই ‘শিক্ষাতরী’।

ব্র্যাক সূত্র জানায়, ২০১২ সালে হবিগঞ্জের বানিয়াচঙ্গ, লাখাই ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ব্র্যাকের ‘শিক্ষাতরী’ কর্মসূচি চালু হয়। এ বছর নতুন করে ১৪টি নৌকায় চালু করা হয় ‘শিক্ষাতরী’। জেলায় মোট শিক্ষাতরীর সংখ্যা ৪২।

তন্মধ্যে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের গ্রামের বাড়ি বানিয়াচঙ্গ উপজেলায় ৩৫টি, লাখাই উপজেলায় ৪টি, আজমিরীগঞ্জে ২টি ও হবিগঞ্জ সদরে ১টি। এ সকল স্কুলের মোট শিক্ষার্থী ১ হাজার ৩৮৬ জন।

একটি নৌকা তৈরি করতে খরচ হয় সাড়ে ৫ লাখ টাকা। একটি নৌকায় ৩৩ জন শিশুকে পাঠদান করেন একজন শিক্ষক। নৌকায় একজন পাহারাদার ও একজন মাঝি থাকেন। তাদের বেতন, নৌকার জ্বালানী এবং শিক্ষা উপকরণ প্রদান করে ব্র্যাক।

নৌকাগুলো সাজানো হয় আকর্ষণীয়ভাবে। লাল এবং সবুজ গালিচায় বসে শিশুরা ক্লাস করে। নৌকাগুলো জাতীয় ফুল, ফল ও পাখিসহ আকর্ষণীয় চিত্রকর্মে সমৃদ্ধ। রয়েছে নানান উপকরণ। ফলের নামে ৬টি গ্রুপ করা হয়। প্রত্যেক গ্রুপের রয়েছে আলাদা ডিসপ্লে¬ বোর্ড। উপকরণ হিসেবে ঐতিহ্যবাহী মাটির শ্লেট ও গণনা শেখার জন্য ব্যবহার করা হয় বাঁশের শলাকা। আনন্দের মাঝে শিশুরা শিক্ষা গ্রহণ করে।

শৃঙ্খলা আর নিয়মানুবর্তিতাও দেখার মতো। প্রতিদিন নৌকা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে শিশুদের নিয়ে আসে এবং ছুটির পর বাড়িতে দিয়ে যায়। সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত স্কুল চলে। শিশুরা বাড়িতে থাকার চেয়ে স্কুলে যেতেই বেশি পছন্দ করে।

ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই