পণ্যের অস্থিতিশীল বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারি খাতের একমাত্র বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম কুষ্টিয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
দাম বেশি ও মান খারাপ হওয়ায় কুষ্টিয়ার টিসিবির ডিলাররা এবার পণ্য উত্তোলন করেননি। এরফলে প্রতিষ্ঠানটি বাজারে কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারছে না।
টিসিবি যেসব পণ্য সরবরাহ করছে, সেগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের বলে অভিযোগ উঠেছে। মূলত নিম্নমানের চিনি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ভোজ্যতেল সরবরাহের কারণে চাহিদা সত্তে¡ও বিক্রি করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ডিলাররা।
কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলায় ৩২ জন ডিলার রয়েছেন। প্রতি ডিলারের জন্য ১টন চিনি, ১’শ কেজি মসুর ডাল, ২’শ কেজি নেপালি ডাল, ৬’শ লিটার সয়াবিন তেল, ছোলা ৪’শ কেজি ও ১’শ কেজি খেজুর বরাদ্দ রয়েছে। বরাদ্দ থাকলেও জেলার কোনো ডিলার মালামাল উত্তোলন করেনি।
ডিলাররা বলছেন, টিসিবির পণ্যের গুণগতমান খারাপ, তাদের সরবরাহকৃত এস আলম তেল ও চিনি মেয়াদত্তীর্ণ। ওজনেও দেয়া হয় কম। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়নপুরের টিসিবি ডিলার জাহিদুল ইসলাম ডাবলু বলেন, টিসিবির পণ্য বিক্রি করে কোনো লাভ হয় না।
পণ্যের গুণগতমান খুব ভাল না। ছোলার দাম কম থাকায় চাহিদা থাকা সত্তে¡ও কর্তৃপক্ষ ছোলা দেয় না। চিনি ও খেজুরের মান খুবই খারাপ। টিসিবি থেকে সরবরাহকৃত এস আলম তেল মেয়াদত্তীর্ণ। ওজনেও দেয়া হয় কম। তাই পণ্য উত্তোলন করা হয়নি।
রমজানে টিসিবি পণ্যের চাহিদা থাকায় ক্রেতারা বলছে, টিসিবি পন্য বিক্রি চালুর মধ্য দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রন সম্ভব। রমজানেই পণ্য বিক্রি চালু হোক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিলারদের অভিযোগ সব ঠিক না হলেও কিছু সমস্যা রয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহের বিষয়ে ডিলার ও ক্রেতাদের অভিযোগ আমরাও পেয়েছি। তারা যতটা অভিযোগ করেছে সবটুকু ঠিক না কিছু কিছু জায়গায় সমস্যা রয়েছে।
তিনি উদাহারণ টেনে বলেন, সরকারি মিলে উৎপাদিত চিনি দেখতে খারাপ হলেও মানে ভালো। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন বলেন, বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিলার ছাড়াই টিসিবি সরাসরি জনগণের নিকট পণ্য বিক্রি করবে।
গুণগত পণ্য সরবরাহ ও বিক্রি করে বাজার দর নিয়ন্ত্রণ রাখতে সরকারের এই উদ্যোগ কার্যকর হবে বলে মনে করেন তিনি ।
এসএইচ





