অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনে। এতে ব্যয় ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে। পুরো অর্থই সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে।
এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনার জন্য ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। এতে সরকারি অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হবে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। প্রকল্পের অর্থের একটি বড় অংশ ঋণ ও অনুদান থেকে এবং বাকি অংশ সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয় করা হবে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়নে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনে আরও ২১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকার দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন হয়েছে। এতে ৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ২ হাজার ১৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয় করা চ্যান্সারি ভবন সংস্কার ও আধুনিকায়নে ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এ অর্থ পুরোপুরি সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে।
পঞ্চগড়ের ভজনপুর-পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।
এ ছাড়া থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯২৬ কোটি ১২ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ১৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার একটি নতুন প্রকল্পও অনুমোদন দিয়েছে একনেক। প্রকল্পটির পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে।
এদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে আগে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের একটি প্রকল্পের বিষয়েও একনেক সভাকে অবহিত করা হয়েছে। এর আওতায় জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল ও খাড়োয়া খাল পুনঃখননের কাজ রয়েছে।
এস











