সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ক্যাম্পের ইনচার্জ সুবেদার নজরুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের হয়েছে। বিজিবির ভোমরা ক্যাম্পের সিপাহী নায়েক মো. মুন্নু মোল্লা বাদী হয়ে চারজনের নামে থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। এর একটি হত্যা মামলা এবং অপরটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) শেখ নাসির উদ্দীন জানান, পৃথক দুটি মামলার চার আসামিরা হলেন সদরের মাহমুদপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন পলাশ, সদরের বাটকেখালি গ্রামের তাবারক মোল্লার ছেলে রনি মোল্লা। এ ছাড়াও দিগন্ত টেলিভিশন ও নয়া দিগন্ত পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে হাবিব ও রিয়াজ।
বিজিবির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সুবেদার নজরুল ইসলাম তার সহকর্মী সিপাহি বেল্লাল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে সীমান্তের লক্ষীদাঁড়ি বেড়িবাঁধ এলাকায় টহলে ছিলেন। এসময় আনোয়ার হোসেন পলাশ, রনি মোল্লা, সাইফুল্লাহসহ কয়েকজন চোরাচালানি চোরাইপথে ভারতীয় পণ্য নিয়ে আসছিল। বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা তার ওপর হামলা করে। সন্দেহ হলে ভোমরা সীমান্তের লক্ষীদাঁড়ি ভোমরার ২/৬ নং পিলারের কাছে পলাশ ও রনির দেহ তল্লাশি করতে চান নজরুল ইসলাম। এ সময় তারা নিজেদেরকে প্রথমে র্যাব সদস্য পরে খুলনা থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টার হিসেবে পরিচয় দেয়।
এর পর সুবেদার নজরুল ইসলাম তাদেরকে তল্লাশি করতে এগিয়ে গেলে পলাশ তার ডান হাতের কনুই দিয়ে সুবেদার নজরুল ইসলামের বুকে সজোরে আঘাত করে। এতে নজরুল ইসলাম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পলাশের সঙ্গে থাকা রনি দৌড়ে এসে নজরুল ইসলামের শরীরে আরো আঘাত করে। এতে সুবেদার নজরুল জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও বিবিজি সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নজরুল ইসলাম রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার মাগুরডাঙ্গা গ্রামের আমীর আলীর ছেলে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আনোয়ার হোসেন পলাশ ও রনি মোল্লাকে ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় জনতা আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
এদিকে মর্মান্তিক এ ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বিজিবির সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল খলিলুর রহমান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডেরর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হবে।
জেআই





