মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত জাতীয় ‘সম্প্রচার নীতিমালা’য় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার হরণ করতেই সরকার এ কৌশল গ্রহণ করেছে বলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

অনুমোদিত ‘সম্প্রচার নীতিমালার প্রতিবাদে আগামীকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বিএফইউজে ও ডিইউজের নেতারা।

আজ সোমবার বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি শওকত মাহমুদ ও মহাসচিব এম এ আজিজ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আবদুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান এক যুক্ত বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সাংবাদিক নেতারা সরকার এটাকে পুঁজিঁ করে গণমাধ্যমের কন্ঠ রোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেনতারা।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, সম্প্রতি নির্বাহী আদেশে পত্রিকার প্রকাশনা বাতিলের ক্ষমতা যুক্ত করে দ্য প্রিন্টিং প্রেসেস অ্যান্ড পাবলিকেশন অ্যাক্ট ১৯৭৩ সংশোধন করে ‘সম্প্রচার নীতিমালা’র প্রণয়ন করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। আর আজ সোমবার মন্ত্রিসভা তা অনুমোদন দিয়েছে।

আর এ নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো গণমাধ্যমই সরকার, সরকারি কর্মকর্তা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতি ও অন্যায়-অবিচারের বিষয়ে কোনো সমালোচনা করতে পারবে না। করলে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া এই নীতিমালায় টক শো-কে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করার অপচেষ্টা হচ্ছে।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, সরকার আগে সম্প্রচার নীতিমালা ও পরে সম্প্রচার কমিশন গঠন করার উদ্যোগ নিচ্ছে। এর মানে হচ্ছে কমিশনকে এই নীতিমালাকেই অনুসরণ করতে বাধ্য করা। এ অবস্থায় কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ হতে বাধ্য। নিরপেক্ষ সম্প্রচার কমিশন গঠন করে গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও উন্নয়নের জন্য একটি সর্বজনগ্রাহ্য সম্প্রচার নীতিমালা তৈরির দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিএনপি: সোমবার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণমাধ্যমকে ‘সরকারি খাঁচায়’ বন্দীর জন্যই এ নীতিমালা করা হচ্ছে। জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতার কথা বলে সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চায়।
আজ সোমবার সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন।

রুহুল কবির বলেন, সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা, অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমকে জবাবদিহির আওতায় আনার ধোয়া তুলে সরকার আইন করতে যাচ্ছে। টেলিভিশন বন্ধেও নাকি আইন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে গণমাধ্যমকে খাঁচায় পুরতে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে এসব করছে। এটা বাকশাল কায়েমের একটি ভিন্ন পন্থা। তিনি সরকারকে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের সর্বনাশা পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

রুহুল কবির বলেন, সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা, অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমকে জবাবদিহির আওতায় আনার ধোয়া তুলে সরকার আইন করতে যাচ্ছে। এটা বাকশাল কায়েমের একটি ভিন্ন পন্থা। তিনি সরকারকে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের সর্বনাশা পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার গেজেট প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন,নীতিমালায় সম্প্রচার আইন এবং একটি সম্প্রচার কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশের পর তা কার্যকর শুরু হবে।

আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় সম্প্রচার নতিমালা, ২০১৪’-এর খসড়া অনুমোদনের পর তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।

হাসানুল হক ইনু বলেন, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটা গণমাধ্যম জগতে নতুন দিন উন্মোচনকারী পদক্ষেপ। বিকাশমান সম্প্রচার জগত গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হবে। চন্তার বহুমাত্রিকতা ও বৈচিত্র্য বজায় থাকবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই নীতিমালার মাধ্যমে নাগরিক স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। গণমাধ্যমকে সংকুচিত করার জন্য নীতিমালা করা হয়নি। বিদ্যমান যেসব আইনে গণমাধ্যম পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলো সমন্বিত করে নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে।

ঢাকা, ৪ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, একে